Sunday 31 Aug 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত শিক্ষার্থীরা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩১ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৩৯ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১৯:৪০

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম ব্যুরো : স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত শতাধিক শিক্ষার্থী কাতরাচ্ছেন হাসপাতালে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেছেন।

রোববার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেইট এলাকায় স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

ঘটনাস্থলে থাকা সারাবাংলার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় করেসপন্ডেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান রাফি জানিয়েছেন, শুরুতে গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীরা পরস্পরকে ধাওয়া পালটা ধাওয়া হয়। উভয়দিক থেকে মুর্হুমুহু ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনাস্থলে আহত হন চবি’র উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিনসহ অনেকে।

বিজ্ঞাপন

গ্রামের লোকজনকে রড, রামদাসহ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের আক্রমণ করতে দেখা গেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে ‍গুরুতর আহত করা হয়। দুজন ছাত্রকে কুপিয়ে একটি ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বর্তমানে ঘটনাস্থলের দুই পাশে শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। সেখানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। থেমে থেমে সংঘাতের ঘটনাও ঘটছে।

আহত শিক্ষার্থীদের প্রথমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে গুরুতর আহত অনেককে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস, অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের চমেক হাসপাতালে নিতে দেখা গেছে।

চমেক হাসপাতালে থাকা সারাবাংলার ফটোকরেসপন্ডেন্ট শ্যামল নন্দী জানান, হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের আনা হচ্ছিল আর জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ক্যাজুয়ালিটিসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন। এদের কারও মাথায় জখম, কারও শরীর রক্তাক্ত, কেউ হাতে কিংবা শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত পেয়েছেন।

চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বেলায়েত হোসেন সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৫১ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। আরও অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আরও কয়েকজনকে আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনতে দেখা গেছে।

এদিকে সংঘর্ষ শুরুর প্রায় তিন ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের সদস্যরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুরু থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকলে গ্রামের লোকজন শিক্ষার্থীদের এভাবে আক্রমণ করতে পারতো না।

শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর অব্যাহত সংঘর্ষের মধ্যে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জনসাধারণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা, শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেইট বাজারের পূর্বসীমা থেকে পূর্বদিকে রেলগেইট পর্যন্ত সড়কের উভয়পাশে রোববার দুপুর ২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এসময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় সকল ধরনের সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও সকল ধরনের দেশী অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচজন বা এর অধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান কিংবা চলাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এর আগে, শনিবার (৩০ আগস্ট) মধ্যরাতে একই এলাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জোবরা গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ, চবি’র নিরাপত্তা বাহিনীর এবং প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এর জের ধরে রোববার সকাল থেকে একই এলাকায় আবারও উত্তেজনা এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষের শুরু হয়।

সারাবাংলা/আরডি/এসআর

আহত চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চবি সংঘর্ষ

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর