Thursday 15 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বেরোবির হলে ‘ম্যানার শেখানো’র নামে নৃশংস র‍্যাগিং, শিক্ষার্থী হাসপাতালে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:২৬ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:০২

প্রতীকী ছবি।

রংপুর: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বিজয়-২৪ ছাত্র হলে ‘ম্যানার শেখানো’র নামে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের হাতে র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়ে বাংলা বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম অসুস্থ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রোববার (২৩ নভেম্বর) মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে হলের ছাদে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অভিযুক্ত চার সিনিয়রকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলে থাপ্পড় মেরে শিক্ষার্থীকে কান্নায় ভেঙে পড়ার পরিস্থিতিতে ফেলে। ঘটনার জেরে হল প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর জানিয়েছেন, র‍্যাগিংয়ের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাংলা বিভাগের ১৭তম ব্যাচের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে ‘ম্যানার শেখানো’র অজুহাতে হলের ছাদে ডেকে নেয় সিনিয়ররা। নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ১৬তম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আল মামুন, ১৭তম ব্যাচের ১৭ ব্যাচের দ্বীন ইসলামকে থাপ্পড় দেন। এতে শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়লে আবাসিক শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন। এসময় অভিযুক্তদের দুজন পালিয়ে যান। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এসে দুই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে যান।

ঘটনার পর দ্বীন ইসলামের অবস্থা খারাপ হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীর কান ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রক্টর ও হল প্রশাসনকে জানানোর পর সহকারী প্রভোস্ট টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেন। এ সময় তারা দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্তদের আজীবন বহিষ্কারের দাবি জানান।

অভিযুক্তদের একজন আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তেমন কিছু হয়নি। ছেলেটি অভিনয় করেছে। হলের ভাইয়েরা আসার পরই সে কান্নাকাটি শুরু করে।’ তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, থাপ্পড়ের পর শিক্ষার্থী সত্যিই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

ঘটনার জেরে বিজয়-২৪ হল প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন হলের সহকারী প্রভোস্ট ড. এ.টি.এম. জিন্নাতুল বাসার এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রভোস্ট সাইফুদ্দীন খালেদ এবং সহকারী প্রক্টর মো. ফায়সাল-ই-আলম।

হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ বলেন, ‘কমিটি গঠন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান জানান, ‘র‍্যাগিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কেউ ছাড় পাবে না। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে এবং এরপর শৃঙ্খলা বোর্ডের বৈঠক করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র‍্যাগিং নিষিদ্ধ এবং এর জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বেরোবিতেও ইতিমধ্যে র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি প্রচলিত। গত আগস্টে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অনুরূপ র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠলে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় এবং তদন্ত চলমান।

এই ঘটনা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, বিশেষ করে যখন ব্রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, তদন্তের ফলাফলে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।

সারাবাংলা/জিজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর