ফরিদপুর: শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর সি আর আবরার বলেছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদেরকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশ্রয়ের বাইরে এসে পেশাদারি আচরণ করতে হবে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে এই সরকার একটি গ্রহনযোগ্য টেকসই ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরে ‘শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির ভাষনে এসব কথা বলেন তিনি।
ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে জেলা প্রশাসন ও বৃহত্তর ফরিদপুর প্রাইভেট স্কুল সমন্বয় পরিষদের সহায়তায় এ সেমিনারে বৃহত্তর ফরিদপুরের ৫ জেলার শিক্ষকরা অংশ নেন।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে সেমিনারে সম্মানিত অতিথি ছিলেন-দুর্নীতি দমন কমিশন এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক প্রফেসর বি.এম আব্দুল হান্নান।
শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকরা তাদের নাগরিক মর্যাদা হারিয়ে প্রজা হয়েছিল। স্বাধীন নাগরিক হিসাবে বেঁচে থাকার অধিকারও হারিয়ে গিয়েছিল। ২৪-এ তরুণদের হাত ধরে দ্বিতীয়বার নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেটি কাজে লাগাতে হবে। রাষ্ট্রের ক্ষতিকর ব্যাক্তিদের বিচার প্রক্রিয়া চলছে, রাষ্ট্র সংস্কার চলমান, আগামীতে যারা সরকারে থাকবেন তারা এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবেন আশা করি ‘ তাই আগামী নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় সে জন্য সকলকে আন্তরিক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের শিক্ষকদের দায়বদ্ধতার কথা বলে তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সকল অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের মানুষরূপে গড়ে তুলতে পুঁথিগত পাঠের সঙ্গে মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টিসহ নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। সরকারি স্কুল ও প্রাইভেট স্কুলের পার্থক্য দূর করতে হবে।
বর্তমানে শিক্ষার মানদণ্ড নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, সত্যিকার অর্থে শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটাতে হলে নিজের মানদণ্ড নির্ণয় বুঝতে হবে। বিগত বছরগুলোতে এস.এস,সি ও এইচ এসসি পরীক্ষার্থীদের যেভাবে ঢালাওভাবে পাশ করানো হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেই মানদণ্ড ছিল না। সংস্কারের অংশ হিসাবে বর্তমান সরকারের বিনা সুপারিশে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মুল্যায়নের মাধ্যমে এবছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে। দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নে ভবিষ্যত সরকার এই নিয়ম অনুসরণ করবেন বলেও তিনি আশা করেন।
এ সেমিনারে ফরিদপুর, শরিয়তপুর, মাদারিপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ীর শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।