Tuesday 20 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

দুটি দল ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে কিছু আসন নিতে চায়: মির্জা আব্বাস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৬ | আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪৫

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দুটি রাজনৈতিক দল। একটি দল ও তাদের একটি সহযোগী শক্তি নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কিছু আসন দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য বিএনপিকে ক্ষমতায় যেতে বাধাগ্রস্ত করা।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আইডিইবি ভবনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, যেসব দলের মাঠপর্যায়ে জনসমর্থন ও নির্বাচনী প্রচারণা দুর্বল, তারা এখনই ক্ষমতায় যাওয়ার হুংকার দিচ্ছে। এটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয় বলেই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

আলোচনা সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষকই নন, তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে জাতির স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্ব ছাড়া বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করেই বিএনপি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি দেশের গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম করেছেন। গত চার দশকে বাংলাদেশ দুইজন মহান রাষ্ট্রনায়ককে হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘ক্রান্তিলগ্ন’ আখ্যা দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, এই সংকটময় সময় পার হতে হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র বা ইঞ্জিনিয়ারিং যেন সফল না হয়, সে জন্য মাঠে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বিষয়টিকে অবহেলা না করে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। স্লোগান দেওয়া সহজ হলেও নির্বাচনে জয়লাভ করা কঠিন—এ মন্তব্য করে তিনি নেতা-কর্মীদের ডোর-টু-ডোর প্রচারণায় যাওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচনী চর্চা না থাকায় কিছু ঘাটতি থাকতে পারে, তবে সেই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সবাইকে মাঠে নামতে হবে।
মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপি এ পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার কর্মীকে বহিষ্কার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপশক্তি ও সুবিধাবাদীদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মির্জা আব্বাস বলেন, এই দেশকে কোনো প্রতারক, ধান্দাবাজ কিংবা অপশক্তির হাতে তুলে দেওয়া হবে না।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সারাবাংলা/এফএন/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর