ঢাকা: রফতানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে সচল রাখতে ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ ও পুনর্গঠনে বিশেষ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে সার্কুলার জারি করা হয়।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, ইউরোপের সামরিক অস্থিতিশীলতা এবং সরবরাহ চেইনে বিঘ্নের কারণে জাহাজ নির্মাণ খাতের নগদ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে প্রকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ আদায় ও শিল্প খাতের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শ্রেণিকৃত জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ঋণ বা বিনিয়োগ হিসাব পুনঃতফসিল করতে চাইলে মোট ঋণ স্থিতির ওপর ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। এর মধ্যে ১.৫ শতাংশ পুনঃতফসিল আবেদনের সময় এবং অবশিষ্ট ১.৫ শতাংশ কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থগিত সুদ ও অনারোপিত সুদ পৃথক ব্লকড হিসাবে স্থানান্তর করে অবশিষ্ট ঋণ সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে, দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ বিশেষ পুনঃতফসিল করা যাবে।
গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে গ্রাহককে মূল ঋণের বিপরীতে আরোপিত সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আর ব্লকড হিসাবে সংরক্ষিত সুদ গ্রেস পিরিয়ড শেষে সুদবিহীনভাবে পৃথক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য হবে।
এ ছাড়া, আগে বিআরপিডি সার্কুলার নং-১২/২০২৩-এর আওতায় পুনঃতফসিল করা ঋণগুলোকে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট সাপেক্ষে সর্বোচ্চ দুই বছর অতিরিক্ত মেয়াদ দিয়ে বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধা দেওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আলোচ্য বিশেষ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণের বিপরীতে নতুন ঋণ সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট পরিশোধের প্রয়োজন হবে না। তবে নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ যথানিয়মে শ্রেণিকৃত হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের সুযোগ থাকবে না।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এ সুবিধার আওতায় আসবেন না। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক প্রকৃত অর্থে নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কি না, তা বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
এই বিশেষ সুবিধার আওতায় পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের জন্য গ্রাহকরা আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে নিষ্পত্তি করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, এ সিদ্ধান্ত জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা, রফতানি সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং ব্যাংক খাতে ঋণ আদায় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।