ঢাকা: কমিশন সদস্যরা সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই নতুন পে স্কেলের সুপারিশ প্রস্তুত করেছেন এবং এতে সরকারি কর্মচারীরা সন্তুষ্ট হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, তবে পে-কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন শুরু করা যাবে না। রিপোর্টটি জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হবে। এ প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। ফলে এটি কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এবারের পে-কমিশন কাজের ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কমিশন সদস্যরা বহুবার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, ছাত্র, বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন, এমনকি অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী ও বয়স্ক নাগরিকদের মতামতও নেওয়া হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যদিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবার চাহিদা হুবহু বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও, তাদের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা সুপারিশে প্রতিফলিত হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পে স্কেলের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এছাড়া বাজারেও এর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। কারণ সরকার সরবরাহ পক্ষ (সাপ্লাই সাইড) শক্তিশালী রাখার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা নিজে পে-কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করবেন— এটাই প্রমাণ করে সরকার বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে নিকার-এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী এনবিআরকে দুই ভাগে ভাগ করা হচ্ছে— একটি ট্যাক্স পলিসি এবং অন্যটি ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। বর্তমান আইআরডি কাঠামো আর থাকবে না। নিকার থেকে এই কাঠামোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, আগামী ২৭ তারিখ ট্যাক্স পলিসি সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবেন জাহেদী সাত্তার। এই প্রতিবেদনের ওপরও ভবিষ্যৎ রাজস্ব ব্যবস্থাপনার অনেক কিছু নির্ভর করবে।