Wednesday 21 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কৃষি পণ্যের দামে মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজার অদক্ষতা বড় বাধা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫০ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২৪

-ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশে কৃষি পণ্যের বাজারে দামের অস্থিরতার পেছনে মূল কারণ হিসেবে মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিক্য, সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার অদক্ষতাকে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কৃষক পর্যায়ে তুলনামূলক কম মুনাফা হলেও পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

বুধবার(২১ জানুয়া‌রি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ভ্যালু চেন এফিসিয়েন্সি অফ এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই গবেষণা ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও জুন-জুলাই—এই দুই ধাপে পরিচালিত হয়। মাঠপর্যায়ের জরিপের ভিত্তিতে তৈরি এই গবেষণার ফলাফল বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক নীতিগত অবস্থান নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গবেষণাটি ১৮টি জেলার ৬১ টি উপজেলায় পরিচালিত হয়। পণ্যের উৎপাদন ঘনত্বের ভিত্তিতে জেলা নির্বাচন করা হয় এবং ‘পারপাসিভ র‍্যান্ডম স্যাম্পলিং’ পদ্ধতিতে ৪২৬ জন উত্তরদাতার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আলু, পেঁয়াজ, চাল, মুরগির ডিম ও ব্রয়লার মুরগি— এই পাঁচটি পণ্যের খামার থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত মূল্য শৃঙ্খল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধানের প্রতি মণে কৃষকের গড় উৎপাদন খরচ ৮৭২ টাকা। কৃষকরা ধান বিক্রি করেছেন ১,১২৫ থেকে ১,৪৫০ টাকায়। তবে ধান থেকে চাল হয়ে খুচরা বাজারে পৌঁছাতে প্রতি কেজিতে দাম বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫৮.৫০ টাকা।

ফড়িয়া, আড়তদার ও মিলার পর্যায়ে মুনাফা তুলনামূলক কম হলেও পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম দ্রুত বাড়ে। মিলাররা চালের পাশাপাশি তুষ ও কুঁড়া বিক্রি করে প্রতি মণে অতিরিক্ত আয় করেন, যা বাজার দামে প্রভাব ফেলে।

আলু উৎপাদনে কৃষকের প্রতি কেজি খরচ ১০.৬৩ টাকা হলেও বিক্রি হয় গড়ে ১৮.৪৪ টাকায়। কিন্তু কোল্ড স্টোরেজ থেকে বের হওয়ার পর আলুর দাম লাফিয়ে বাড়ে। হিমাগার থেকে আলু বের হলে কেজি প্রতি দাম হয় প্রায় ২৮.৮০ টাকা, যা খুচরা বাজারে গিয়ে দাঁড়ায় ৪৫.৮০ টাকায়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, কোল্ড স্টোরেজ গেট থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত একাধিক হাতবদল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের উচ্চ মুনাফার প্রবণতাই আলুর দামের বড় কারণ।

পেঁয়াজের ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি ১৯.২৪ টাকা হলেও কৃষক বিক্রি করেন প্রায় ৪৬.৯৪ টাকায়। কিন্তু সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে ওজন হ্রাস বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ঘরে রাখলে প্রতি মণে প্রায় ১২ কেজি পর্যন্ত ওজন কমে যায়।

এর ফলে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে বাজারে সংকট তৈরি হয় এবং দাম কেজি প্রতি ৬০ থেকে ১০০ টাকায় ওঠার আশঙ্কা থাকে। গবেষণায় পেঁয়াজের বাজারে কোনো সিন্ডিকেটের প্রমাণ না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ডিম ও ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচের বড় অংশই খাবারের পেছনে ব্যয় হয়—ডিমে প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং ব্রয়লারে ৭৫ শতাংশ। গবেষণার সময় ক্ষুদ্র খামারিরা ডিমে প্রতি পিস ৮১ পয়সা এবং ব্রয়লারে কেজি প্রতি ১২ টাকা লোকসান করেছেন। বিপরীতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে নিয়মিত মুনাফা হয়েছে।

বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ফিড মিল থাকায় তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে কৃষি বাজার স্থিতিশীল রাখতে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি রেফ্রিজারেশন ও স্টোরেজ ব্যবস্থা করা; কৃষকদের জন্য কার্যকর নগদ সহায়তা প্রদান; উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা; মুরগির খাবারের দাম নিয়মিত মনিটরিং করা এবং ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য কন্ট্রাক্ট ফার্মিং চালু।

গবেষণা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃষি পণ্যের ভ্যালু চেইনে কাঠামোগত সংস্কার ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো গেলে কৃষক ও ভোক্তা—উভয়ই উপকৃত হবে। ভবিষ্যৎ কৃষি নীতি নির্ধারণে এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সিলেটে পৌঁছেছেন তারেক রহমান
২১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২২

আরো

সম্পর্কিত খবর