ঢাকা: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামায় অস্বচ্ছতা রয়েছে। এছাড়া, নির্বাচন কমিশন আইন সংস্কার যখন করে তখন সে যেই শক্তির কাছে জিম্মি ছিল তারমধ্যে ব্যবসাভিত্তিক রাজনীতি অন্যতম।’
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘নির্বাচনি হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং কেওয়াইসি ড্যাশবোর্ড উন্মুক্তকরণ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এতে অংশ নিচ্ছে। যাতে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ৮৭ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ১৩ শতাংশ। প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী মূল পেশা বিবেচনায় ব্যবসায়ী। আইন ও শিক্ষক পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬১ এবং ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী।
হলফনামায় দেয়া তথ্য কতটা বিশ্বাসযোগ্য এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে ২১ জনের। তারা নাগরিকত্ব ত্যাগ করার ঘোষনা দিলেও টিআইবির কাছে দুজনের তথ্য আছে যারা এখনো ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বহাল রেখেছেন। এছাড়াও একজন প্রার্থীর ঘোষিত নির্ভরশীলের নামে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে কেনা ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ড ২১০ কোটি টাকা মূল্যের বাড়ির সম্পৃক্ততা তথ্য রয়েছে, যা ওই প্রার্থী হলফনামায় উল্লেখ করেনি। নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী টিআইবি বলছে বাড়িটি কেনার ক্ষেত্রে শেল কোম্পানির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল, যার মূল মালিকানা কোম্পানির নিবন্ধন দেখানো হয়েছে আরব আমিরাতের দুবাইতে। এছাড়া একজন প্রার্থী বিদেশে তার নিজের কোন সম্পদের তথ্য জমা দেননি কিন্তু স্ত্রীর নামে দুবাইতে তার ফ্লাট রয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে বড় আকারে। মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থী দলগুলোর। বিগত ৫টি নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ। এছাড়া, প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।
এবার নির্বাচনে নারীর অংশ গ্রহণ ৪ দশমিক ২ শতাংশ (৮০ জন)। নারী প্রতিনিধিত্বে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতার কারণ অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় উপাদান।
কোটিপতি প্রার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বছর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা ৮৯১ জন। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মোট মূল্যের ভিত্তিতে ২৭ জন শত কোটি পতি প্রার্থী। এছাড়া, এবার সকল দলের প্রার্থীদের ঘোষিত সর্বমোট নির্বাচনী ব্যয় ৪৬৩ দশমিক ৭ কোটি টাকা, প্রতিজন প্রার্থীর গড় ব্যয় সাড়ে ২২ লাখ টাকা। ঘোষিত সবচেয়ে বেশি ব্যয় বিএনপির মোট ১১৯ দশমিক ৫ কোটি টাকা। আর দ্বিতীয় অবস্থানে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মোট ব্যয় ৮০ দশমিক ৬ কোটি টাকা।
ঋণের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। প্রার্থীদের সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ দশমিক ৫২ কোটি টাকা। সর্বশেষ পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়গ্রস্ত প্রার্থী সবচেয়ে কম হলেও তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এরমধ্যে ব্যাংক ঋণের পরিমান ১৭ হাজার ৪৭১ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।