ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিগত পাঁচটি নির্বাচনের তুলনায় এবার স্নাতক ও স্নাকোত্তর ডিগ্রিধারী সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৭৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী ২৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং স্নাকোত্তর ডিগ্রিধারী ৪৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘নির্বাচনি হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
টিআইবি জানায়, ২০০৮ সালের নবম নির্বাচনে স্নাতক ও স্নাকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থী ছিল ৭১ দশমিক ২৩ শতাংশ, ২০১৪ সালের দশম নির্বাচনে স্নাতক ও স্নাকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থী ৭১ দশমিক ৯১ শতাংশ, ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে স্নাতক ও স্নাকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থী ৬৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, ২০২৪ সালের দ্বাদশ সালের নির্বাচনে স্নাতক ও স্নাকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থী ৫৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
সামগ্রিকভাবে প্রার্থীদের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে স্বশিক্ষিত ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, স্বাক্ষরজ্ঞান ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ, নিম্ন মাধ্যমিক ২ দশমিক ৩২ শতাংশ, মাধ্যমিক ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, উচ্চ মাধ্যমিক ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ, স্নাতক ২৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং স্নাতকোত্তর ও উর্ধ্ব ৪৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
এদিকে টিআইবি জানায়, বিগত নির্বাচনের চেয়ে এবার ঋণগ্রস্ত প্রার্থীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নবম ও দশম নির্বাচনে ঋণগ্রস্ত প্রার্থী ছিল ১০ শতাংশ, যা ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে এটি হয়েছে ৪০ শতাংশ। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী ত্রয়োদশ নির্বাচনে বেড়ে ঋণগ্রস্ত প্রার্থীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ শতাংশে।
এই ঋণগ্রস্ত প্রার্থীদের মধ্যে ৬৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ব্যাংক ঋণ (১৭ হাজার ৪৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর ৫৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ ব্যক্তিগত ও অন্যান্য ঋণ (১ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে একক ঋণ ৬১ শতাংশ, কোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে ১৭ শতাংশ, নির্ভরশীল ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ ৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ১ শতাংশ।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।