চট্টগ্রাম ব্যুরো: তিনবার নির্বাচন করে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও গেল ২৫ বছরে চারটি সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রামের আলোচিত নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আবার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়েই ভোটারদের কাছে হাজির হতে পেরেছেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়িয়েছেন শাহজাহান চৌধুরী। নির্বাচনি প্রচার শুরুর দিন থেকেই তিনি কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন গণসংযোগে।
জানা গেছে, দিনের শুরুতে শাহজাহান চৌধুরী সাতকানিয়ায় নিজ গ্রামে মায়ের করব জেয়ারত করেন। এরপর ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির নেতা প্রয়াত ইব্রাহিম বিন খলিলের কবর জেয়ারত করে তিনি নেমে পড়েন গণসংযোগে।
দিনব্যাপী সাতকানিয়া পৌরসভা এলাকায় বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অটোরিকশা নিয়ে ঘুরে ঘুরে ভোট প্রার্থনা করেন জামায়াত প্রার্থী। এ সময় সাধারণ মানুষ কেউ নিজ থেকেই এগিয়ে এসে তার সঙ্গে করমর্দন করেন, আবার কারও কাছে তিনি নিজেই ছুটে যান। হাসিমুখে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। পৌর এলাকায় ঘরের সামনে বসে ছিলেন এক বৃদ্ধা। তাকে দেখে সামনে গেলে ওই বৃদ্ধা শাহজাহান চৌধুরীর মাথায় হাত রেখে বলেন, ‘ইবা আঁর পোআ, আঁই দোয়া গরির’। (তিনি আমার ছেলে, আমি দোয়া করছি)।
গণসংযোগের আগে শাহজাহান চৌধুরী সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
উল্লেখ্য, শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ সালে তরুণ প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) হেভিওয়েট নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও বিএনপির প্রার্থী অলি আহমদের কাছে পরাজিত হন।
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট থেকে এ আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল শাহজাহান চৌধুরীকে। কিন্তু অলি আহমদ ওই আসনে নির্বাচন করতে অনড় অবস্থান নেন। এর ফলে জোট থেকে আসনটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। অলি আহমদ ধানের শীষে এবং শাহজাহান চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। নির্বাচনে তিনি অলি আহমদকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে আনেন।
কিন্তু ২০০৭ সালে এক-এগারো প্রেক্ষাপট পরবর্তী জরুরি অবস্থায় শাহজাহান চৌধুরী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় সাজা হলে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। পরে অবশ্য ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে সাজা বাতিল হয়। ওই নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আরেক জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলাম প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।
২০১৪ সালে ‘একতরফাভাবে’ অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নিয়ে প্রার্থী করে আ ন ম শামসুল ইসলামকে। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি।
এর ফলে ২৫ বছর পর জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে আবারও ভোটের মাঠে এসেছেন শাহজাহান চৌধুরী। তার বিপরীতে বিএনপি ওই আসনে প্রার্থী করেছে নাজমুল মোস্তফা আমিনকে।