ঢাকা: প্রতারণার মামলায় ইউনিলিভার বাংলাদেশের ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম হিরণ জানান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের পরিবেশক মাসুদ এন্ড ব্রাদার্স প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের দায়ে গত বছরের ৭ আগস্ট ইউনিলিভার বাংলাদেশ ও এর পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাটি আদালতে দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ প্রদান করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম গত ৫ জানুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- সৈয়দ জিকরুল বিন জমির (ক্লাস্টার হেড, সেন্ট্রাল সাউথ ক্লাস্টার, কাস্টমার ডেভলপমেন্ট, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড), এম সোয়াইব কামাল, সিনিয়র টেরিটরি ম্যানেজার (ওয়ারী), কাওসার মাহমুদ চৌধুরী (এরিয়া ম্যানেজার, সেন্ট্রাল সাউথ রিজোন), মোহাম্মদ নাহারুল ইসলাম মোল্লা (ম্যানেজিং ডিরেক্টর, কনজুমার কেয়ার), জিন্নিয়া হক (ফাইন্যান্স ডিরেক্টর)।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাসুদ এন্ড ব্রাদার্সকে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড ওয়ারী, মানিকনগর, সদরঘাট, নবাবপুর রোড, মালিবাগ, শ্যামপুর ও মতিঝিল, এলাকার জন্য পরিবেশক নিয়োগ করে ২০০৯ সালের ৩ নভেম্বর চুক্তিপত্র করেন। চুক্তিপত্রে বাদী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তৎকালীন মালিক ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর এ এস এম মাসুদুর রহমান ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষ্যে তাদের কাস্টমার ডেভলপমেন্ট ডিরেক্টর মিজানুর রশিদ স্বাক্ষর করেন। বাদী প্রতিষ্ঠান পরিবেশক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে গোডাউন ভাড়া, পন্য বহনের জন্য গাড়ি ক্রয় এবং মাসিক বেতনে জনবল নিয়োগ করে টাকা বিনিয়োগ করেন। কোটি টাকার নষ্ট ডেট এক্সপেয়ার ও ডেমেজ পন্যের পরিবর্তে নতুন পন্য প্রদান বা মূল্য ফেরৎ না দিয়ে তিন কোটি পঁচাত্তর লক্ষ টাকা আত্মসাৎসহ ৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার ক্ষতি করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আসামিরা বিবাদীকে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে বাদী প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টে বিবাদী প্রতিষ্ঠানের নামে একটি অরবিটিশন মামলা দায়ের করে।
তদন্ত কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, তদন্তে বিবাদী সৈয়দ জিকরুল বিন জমির, এম সোয়াইব কামাল, কাওসার মাহমুদ চৌধুরী, মোহাম্মদ নাহারুল ইসলাম মোল্লা এবং জিনিয়া হকদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজসে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে প্রতারণা ও ভয়ভীতির প্রদর্শনপূর্বক অপরাধে সহায়তা করার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।