রংপুর: মাদক মামলায় গ্রেফতারের পর পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে ট্রাকচালক মুকুল মিয়া (৪০) নামে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৩টা থেকে নগরীর মেডিকেল মোড়ে তার মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলামসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগি পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে পুলিশের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এবিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহত মুকুল মিয়া নগরীর চিকলি ভাটা এলাকার বাসিন্দা। তার মেয়ে মুন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে মহানগর কোতয়ালি থানার এসআই মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচজন সাদা পোশাকের কনস্টেবল বাড়ি থেকে তার বাবাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যান। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফোন করে জানানো হয় যে মুকুল মিয়া মারা গেছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, গ্রেফতারের সময় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন, কিন্তু হাসপাতালে তার শরীরে বালু চাপা দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। তারা দাবি করেন, পুলিশ নির্যাতন করে তাকে হত্যা করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুকুল মিয়ার নামে চারটি মাদক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রাত পৌনে ৩টা পর্যন্ত মেডিকেল মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং মরদেহ হস্তান্তর করে।
স্থানীয়রা জানান, মুকুল মিয়া পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।