ঢাকা: নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুসারে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। বহুল কাঙ্খিত এই নির্বাচনে শুধু জনগণ ও রাজনৈতিক দল নয় বিদেশি অনেক রাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে। নির্বাচন কতটুকু অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, ফলাফল কী এবং জনগণের কাছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে— বাংলাদেশের সঙ্গে ওইসব দেশ কতটুকু ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। এ কারণেই নির্বাচনের সময়ে পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে থাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আসবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করতে প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আসবে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ আরও বলেন, আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ৮৩ জন পর্যবেক্ষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাদের মধ্যে ৩৬ জন আমাদের নিশ্চিত করেছেন। আর পাঁচটি সংস্থা থেকে রিগ্রেট করা হয়েছে। এখনো কনফারমেশনের আরও কিছু বাকি আছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা স্ব-উদ্যোগে আমন্ত্রণ করেছি। আরেকটি ছিল জার্নালিস্ট ও অবজারভারদের জন্য ওপেন ইনভাইটেশন। এ পর্যন্ত ৫০ জন সাংবাদিক আমাদের কাছে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যে, তারা এখানে এসে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে চান। ৭৮ জন অবজারভার ও ৫০ জন সাংবাদিক আসতে চান।
ইইউ মিশনের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন শুরু
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশন দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে সারাদেশের উদ্দেশ্যে গমনের মাধ্যমে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের কাজ শুরু হয়।
মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্ডা লাসে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আমাদের মিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পর্যবেক্ষণ এবং অন্তর্দৃষ্টি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। পর্যবেক্ষকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আগত। তাদের মাঠ পর্যায়ে মোতায়েনের আগে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এই মিশনটি নিয়োজিত করা হয়েছে। মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস, যিনি গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মিশনের কার্যক্রম শুরু করেন।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এই মিশনটিকে আরও জোরদার করতে যুক্ত হবেন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকগণ। তারা নির্বাচনের দিনের কার্যক্রম-ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল যুক্ত হয়ে এই মিশনের কার্যক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে। পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ইইউ সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড মিলিয়ে এই মিশনে মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকবেন।
১৪ সদস্যের নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে কমনওয়েলথ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ১৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে কমনওয়েলথ। এই পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ ই নানা আকুফো-আদো। বুধবার (২১ জানুয়ারি) লন্ডনে কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে পর্যবেক্ষক দলের নাম ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে লন্ডনে কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দলের গঠন ঘোষণা করেন। ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দলের তালিকায় আছেন—ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডডো, ক্যারিবিয়ান উইমেন ইন লিডারশিপের প্রেসিডেন্ট লেব্রেচটা নানা ওয়ে হেসে-বেইন, কানাডার যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ নিল ফিলিপ ফোর্ড, প্যাসিফিক ইয়ুথ কাউন্সিলের সমন্বয়ক মিলিয়ানা ইগা রামাতানিভাই, মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর ড. রাস আদিবা মোহাম্মদ রাদজি, মালদ্বীপের সাবেক উপমন্ত্রী জেফরে সালিম ওয়াহিদ, মরিশাসের নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ ইরফান আবদুল রহমান, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক ডেভিড জন ফ্রান্সিস, সিঙ্গাপুরের মানবাধিকার আইনজীবী সাঙ্গিথা যোগেন্দ্রন, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক ম্যান্ডলা এমচুনু, শ্রীলঙ্কার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. দিনেশা সামারারত্নে, উগান্ডার অধ্যাপক উইনিফ্রেড মেরি তারিনেবা কিরিয়াবউইরে, যুক্তরাজ্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ রোজমেরি আজায়ি, জাম্বিয়ার সাবেক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ক্রিটিকাস প্যাট্রিক এনশিনদানো।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২৬ দেশকে আমন্ত্রণ
নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশ হলো অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জর্জিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, রোমানিয়া, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড, উজবেকিস্তান, তুরস্ক, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও মালদ্বীপ। সাতটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আমন্ত্রিত দেশগুলো হলো এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো হলো- সার্ক, কমনওয়েলথ, ওআইসি, অ্যানফ্রেল, এ-ওয়েব, আইআরআই ও এনডিআই।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী বিদেশি ওইসব সংস্থার মতামতের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকায় তাদের দেওয়া প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে থাকে বিদেশি সরকার ও সংস্থাগুলো। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিদেশি পর্যবেক্ষক আসার বিষয়ে নীতিমালা আছে এবং যারা আসতে চান, তাদের সহায়তাও দেওয়া হয়ে থাকে। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ এবং কমনওয়েলথ বাংলাদেশে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে গেছে। আইআরআইও বাংলাদেশের নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিনিধি পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া আরও কিছু সংস্থা বাংলাদেশের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
বিদেশি পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, একটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হলে, তাদের সুষ্ঠু নির্বাচন করার সক্ষমতার ওপর অনেক সময় সন্দেহ পোষণ করা হয়। এমন দুর্বল কাঠামোর রাষ্ট্রে নির্বাচন কতটুকু অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, সেটি প্রত্যক্ষভাবে দেখার জন্য জন্য বিদেশ থেকে পর্যবেক্ষরা এসে থাকেন।
কারা এই বিদেশি পর্যবেক্ষক
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কানাডা, মালয়েশিয়া. ভারতসহ বিভিন্ন দেশ পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে থাকে। আবার ওআইসি, জাতিসংঘ, সার্ক বা কমনওয়েলথের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বিভিন্ন দেশে পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে থাকে। এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশন ১৭ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু করেছে। আর কমনওয়েলথ ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নাম ঘোষণা করেছে।
কারা অনুমোদন দিয়ে থাকে
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বাংলাদেশে কাজ করার অনুমোদন দিয়ে থাকে নির্বাচন কমিশন। এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে এবং মাঝে মাঝে সেটি আপডেট করা হয়। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভিসা দেওয়া থেকে শুরু করে লজিস্টিক পরামর্শ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে থাকে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ইসিতে নিবন্ধন করতে হয় এবং নির্বাচন কমিশন নীতিমালা অনুযায়ী তারা কাজ করে থাকে।
এ বিষয়ে সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশের যেহেতু সুষ্ঠু নির্বাচন করার সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে, সেজন্য আমাদের বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়টি মেনে নিতে হবে। ভবিষ্যৎ বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যদি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে মতামত দেন— তবে সেটি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করবে এবং বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপনে তা আরও সহায়ক হবে।
আগামী নির্বাচনে ৮১ দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকের অনুমোদন
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্তভাবে ৮১টি দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষককে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ২৮ সেপ্টেম্বর, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ৭৩টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রাথমিক তালিকা নির্ধারণপূর্বক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে প্রথম ধাপে ৬৬ দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইসি। এই ৬৬ পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চলতি বছরের ৬ নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ইসির নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দ্বিতীয় ধাপে যাচাই-বাছাই করে ১৫ পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ১৫ সংস্থাকে চলতি বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে ২০৩০ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট পাঁচ বছরের জন্য নিবন্ধন দেওয়া হলো।
দ্বাদশ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকের ডাটা
বিএনপি ও সমমনাদের বর্জন এবং ভোটের আমেজে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রায় আড়াইশ বিদেশি এবং স্থানীয় ২০ থেকে ২২ হাজার আবেদন জমা পড়ে। ওই্ নির্বাচনে ৬৭টি পর্যবেক্ষক সংস্থা প্রথমধাপে নিবন্ধন পায়; দ্বিতীয় ধাপে ২৯টি পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন চূড়ান্ত হয়। নির্বাচনে বিদেশ থেকে যারা ভোট দেখতে আসতে চাইছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ১৬০ জন পর্যবেক্ষক, বাকি ৯০ জন সাংবাদিক।
আগের নির্বাচনে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা
২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে ৮১টি দেশি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজার ৯০০ জন প্রতিনিধি। এছাড়া ৩৮ জন (ফেমবোসা, এএইএ, ওআইসি ও কমনওয়েলথ থেকে আমন্ত্রিত) বিদেশি পর্যবেক্ষক, বিভিন্ন বিদেশি মিশনের ৬৪ জন কর্মকর্তা এবং দূতাবাস ও বিদেশি সংস্থায় কর্মরত ৬১ জন ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।
২০১৮ ও ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ ও দশম সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। পরে এ দুটি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছিল তারা। দশম সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ না নেওয়ায় পর্যবেক্ষকও কম ছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ওই নির্বাচনে মাত্র চারজন বিদেশি এবং স্থানীয় ৩৫টি সংস্থার ৮ হাজার ৮৭৪ জন ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।
২০০৮ সালে ৫৯৩ জন বিদেশি এবং ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন দেশি ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। ২০০১ সালে ভোট পর্যবেক্ষণে আসেন ২২৫ জন বিদেশি এবং ২ লাখ ১৮ হাজার জন দেশি পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। ১৯৯৬ সালে প্রায় ৪০ হাজার দেশি এবং ২৬৫ জন বিদেশি ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। ১৯৯১ সালে ৩০ হাজার দেশি এবং ৫৯ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের নির্বাচন থেকে বিদেশি পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণের বিষয়টি শুরু হয়। এরপর ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচন, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনেও বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এসেছিলেন।