রংপুর: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচন কার্যত একটি দলীয় সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সরকারি দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের কার্যকর জোট গড়ে তোলা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঠিক আগের রাতে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে ১১টায় রংপুর নগরীর সেনপাড়ায় নিজ বাসভবন ‘দ্য স্কাইভিউ’-তে এক বক্তব্যে এ কথা বলেন।
জি এম কাদের বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এ কারণেই এক সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে আবার দলীয় প্রভাবের নির্বাচন চলছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সংস্থায় নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে, যা জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে।
তিনি গণমাধ্যমে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বলেন, জাতীয় পার্টির বক্তব্য সঠিকভাবে প্রচারিত হচ্ছে না, অন্যদিকে নির্দিষ্ট দল-জোটকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক প্রটোকলের অপব্যবহার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক ভূমিকায় দলের কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মিছিল-মিটিংয়ে বাধা, হল ভাড়া না পাওয়া এবং স্বাভাবিক প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচনি সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে জি এম কাদের জানান, নীলফামারী, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ওপর হামলা, কর্মী-সমর্থক আহত, নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুর এবং একাধিক প্রার্থী কারাবন্দি রয়েছেন। এমন প্রতিকূল পরিবেশেও দল নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনগণের সামনে অনিয়ম-বৈষম্য তুলে ধরতে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ সত্য উপলব্ধি করে ভোটের মাধ্যমে অবস্থান স্পষ্ট করবে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় দল রাজপথে সক্রিয় থাকবে বলেও জানান তিনি।
এনসিপি প্রার্থীর পালটা অভিযোগ: বিএনপি-জাপা ভোট কেনা ও হামলা চালাচ্ছে
একই রাতে (পৌনে ১২টায়) পীরগাছায় উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী আখতার হোসেন বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোট কেনার চেষ্টা ও হামলার অভিযোগ তোলেন।
তিনি বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার বিরুদ্ধে বলেন, ভোটের শেষ মুহূর্তে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা চলছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পারুল ইউনিয়নে এক নারী কর্মীর স্কার্ফ খোলার চেষ্টা ও মিছিল থেকে মাইক কেড়ে নেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আখতার বলেন, মঙ্গলবার দেউতি এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে গণসংযোগ করা হয়েছে। বাধা দিলে ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কদমতলার এক মাদ্রাসায় হামলার উদ্দেশ্যে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, একাধিক অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভোটাররা শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করবেন এবং কারচুপি-ষড়যন্ত্র রুখে দেবেন।
রংপুর-৪ আসনে ৮ প্রার্থীর মধ্যে মাঠে সরব বিএনপি, এনসিপি ও জাতীয় পার্টি। নির্বাচনের আগের রাতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তেজনা বিরাজ করছে।