Wednesday 01 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রংপুর মেডিকেলে নিউমোনিয়া-শ্বাসকষ্টে ৩ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪৮

রংপুর: রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় গত তিন দিনে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামে আক্রান্ত চার শিশুর রোগ নিশ্চিত হয়েছে। তাদের শিশু ওয়ার্ড থেকে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডের প্রবেশপথের পাশে হাম আক্রান্তদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সেখানে চার শিশুকে রেখে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশফাক আহমেদ জানান, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। তাই অন্য শিশুদের সঙ্গে না মিশিয়ে আলাদা রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে রয়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ১ বছর ৬ মাস বয়সী প্রজ্ঞা রায় (২৫ মার্চ ভর্তি), গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ২ বছর বয়সী আরাফাত (শনিবার ভর্তি), লালমনিরহাটের ৮ মাস বয়সী আমাতুল্লা জান্নাত (পাঁচ দিন ধরে চিকিৎসাধীন) এবং রংপুরের ভুরারঘাটের ১ বছর বয়সী সাইয়াম আহমেদ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রথমে প্রচণ্ড জ্বর, শ্বাসকষ্ট, জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে শরীরে র‍্যাশ বের হলে হাম নিশ্চিত হয়। বর্তমানে চার শিশুর অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে, তবে এখনও শঙ্কামুক্ত নয়।

আরাফাতের মা জয়নব বেগম বলেন, ‘ছেলের অবস্থা খুবই শোচনীয় ছিল। কয়েক দফা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। এখন একটু উন্নতি হয়েছে।’

প্রজ্ঞার বাবা রঞ্জিত রায় জানান, ‘হঠাৎ জ্বর-শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। র‍্যাশ বের হলে হাম ধরা পড়ে। দুই দিন আগে হার্টে সমস্যা দেখা দেয়, জ্ঞান হারায়। ডাক্তারদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় এখন কিছুটা সুস্থ।’

আমাতুল্লা জান্নাতের বাবা আব্দুস সালাম ও সাইয়ামের বাবা আইয়ুব আলীও অনুরূপ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাঁরা বলেন, বড় ডাক্তাররা নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে শতাধিক শিশু জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে মৃত পাঁচ শিশুর মধ্যে হাম ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে মাত্র ১০টি শয্যা রয়েছে। রোগীর স্বজনরা বলছেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের যেকোনো সময় সিসিইউ প্রয়োজন হতে পারে। তাই আইসিইউ ও সিসিইউ শয্যা বাড়ানো জরুরি।

পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, ‘হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চারজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাদের চিকিৎসায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বয়স্ক কেউ আক্রান্ত হয়নি। আইসিইউ সাপোর্টসহ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

চিকিৎসকরা জানান, হামের উপসর্গ প্রথমে নিউমোনিয়ার মতো মনে হয়। তাই সতর্কতা জরুরি।

রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. গাওসুল আজিম চৌধুরী জানান, হাম প্রতিরোধে রমেকে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাম কর্নার চালু করা হয়েছে। জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও বিশেষ কর্নার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভাগে এমআর টিকার কোনো সংকট নেই।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর