Friday 17 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মুরগির দাম কমলেও সবজি-মাছের বাজার অস্থির

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৬

কোলাজ ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: মধ্যপাচ্যের অস্থিরতায় তেলের সংকট ও দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ক্রেতাদের ওপর। পরিবহন খরচ বাড়ায় রাজধানীর বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। বিক্রেতারা বলছেন,অতিরিক্ত পরিবহন খরচ, সবজির মৌসুম শেষ, সরবরাহ কমসহ বিভিন্ন কারণে এই দর বাড়ছে। বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম এখন ১০০ টাকার বেশি।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

আজকের বাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, কাঁকরোল প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বরবট প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া প্রতি কেজি মূলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, টমেটো প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা এবং কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে এসে বেসরকারি চাকরিজীবী আবদুল মান্নান বলেন, ‘আজ বাজার করতে এসে দেখছি সব ধরনের সবজির দাম অনেক বাড়তি। বেশিরভাগ সবজি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, অন্যগুলো ৮০ টাকার ঘরে। অল্প কিছু সবজি‌ ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বলতে গেলে প্রতিটা সবজির দাম অতিরিক্ত বেশি। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সবজির দাম খুব বেশি যাচ্ছে। যে যার মতো ইচ্ছে করে বাড়তি দাম আদায় করছে। অথচ বাজার মনিটরিংয়ের কোনো উদ্যোগ দেখছি না।’

সবজির দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বাসাবো বাজারের সবজি বিক্রেতা রহিমা বেগম বলেন, ‘আসলে বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। মূলত বেশ কিছু সবজির মৌসুম এখন শেষ হয়েছে, নতুন করে সবজি ওঠার আগ পর্যন্ত বাড়তি দাম থাকবে। পাইকারি বাজারেই আমাদের সব ধরনের সবজি বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।’‌

মুগদা বাজার এলাকায় সবজির বিক্রেতা আলিম বলেন, ‘সবজির মৌসুম শেষের পাশাপাশি পরিবহনের খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে। ‌এ ছাড়া পাইকারি বাজারগুলোতে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাজারে বাড়তি দাম যাচ্ছে সবজির।’

এসব বাজারে লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৩০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে মুরগির দাম কিছুটা কমলেও বেড়েছে মাছের দাম।

শুক্রবার সোনালি মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৩৮০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৯০ টাকা দরে করে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

তবে মাছের বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। ৩০০ গ্রাম সাইজের ১ কেজি ইলিশ মাছ ১৪০০ টাকা থেকে ১৫০০ এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

সারাবাংলা/একে/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর