সিলেট: সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সপ্তাহব্যাপী বইমেলার অনুমতি বাতিল করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শুরু হওয়ার কথা ছিল সপ্তাহব্যাপী এই বইমেলা। কিন্তু সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও ঠিক আগের রাতে মেলার অনুমোদন বাতিল করে দিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)।
হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ঢাকা ও সিলেটের ২০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।
সিলেট মহানগর পুলিশের নগর বিশেষ শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ বিবেচনা করে পূর্বের দেওয়া অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। তবে পুলিশের এই অজুহাত মানতে পারছেন না আয়োজকরা। তাদের মতে, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও একইভাবে মেলা বন্ধ করা হয়েছিল, যা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে বড় বাধা।
প্রকাশক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুফি সুফিয়ান জানিয়েছেন, স্টল নির্মাণের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। ঢাকা থেকে প্রকাশকরাও চলে এসেছিলেন। শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে তারা দিশেহারা। মেলায় ২০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
সূত্রে জানা গেছে, মেলায় অংশ নেওয়া দু-একজন প্রকাশকের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হওয়ার অভিযোগ এনে একটি গোষ্ঠী মেলা বন্ধের প্রচারণা চালাচ্ছিল। সেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই কি এই নিষেধাজ্ঞা? পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
সিলেট প্রকাশক পরিষদের সদস্য ও মাছরাঙা প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী আবুল কাসেম বলেন, ‘তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি- একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক আয়োজনকে ‘মবের আশঙ্কা’ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে বাতিল করা নিছক একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় বরং এটি আমাদের চিন্তা, বাকস্বাধীনতা ও সংস্কৃতির ওপর সরাসরি এবং বিপজ্জনক আঘাত।’
তিনি আরও বলেন, প্রকাশক হিসেবে বইমেলাকে দেখি মুক্তবুদ্ধির উন্মুক্ত মঞ্চ হিসেবে যেখানে মতের ভিন্নতা আছে, চিন্তার বৈচিত্র্য আছে, আর সেই বৈচিত্র্যই গণতন্ত্রের প্রাণ। বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার স্থান নয় বরং এটি জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আলোকিত সমাজ নির্মাণের উৎসব। সেই উৎসবকে থামিয়ে দেওয়া মানে জাতির অগ্রগতির পথ রুদ্ধ করা। এই অযৌক্তিক ও আত্মসমর্পণমূলক সিদ্ধান্তের অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা দাবি করছি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বই মেলার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বই প্রিয় অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খান মন্তব্য করে বলেন, এমনিতেই বর্তমান প্রজন্ম মোবাইল আসক্তির কারণে বইপড়া বা বইকেনা থেকে অনেক অনেক দুরে চলে যাচ্ছে তার উপর যদি নানা অজুহাতে বইমেলার মতো একটি চমৎকার উদ্দোগকে রাজনৈতিক দোহাই দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় তবে তা সত্যিই দুঃখজনক ঘটনা।
উল্লেখ্য, অন্তবর্তী সরকার আমলে গত বছর ৭ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশক পরিষদ সিলেট বইমেলা আয়োজন করেছিল। তখনও অনুরূপভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরে মেলা বাতিল করা হয়েছিল। অন্তবর্তী সরকারের পর নির্বাচিত সরকার আমলেও একইভাবে বইমেলার মতো একটি সৃজনশীল আয়োজন বাঁধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রকাশকসহ লেখকেরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।