ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হওয়া অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানান। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফুল মোহাম্মদ জামিন চেয়ে বলেন, তার মক্কেল একজন সুনামধন্য শিক্ষক এবং ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ এ জামিনের বিরোধিতা করে।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রিমান্ডের আবেদন না থাকায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়নি।
পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকা থেকে সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করা হয়। পরে তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়াও চলমান। তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে রোববার (২৬ এপ্রিল) উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যেখানে লেখা ছিল ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া…।’
পরে এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মিমোর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।