ঢাকা: টানা কয়েকদিনের উত্থানের পর পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক দর সংশোধন দেখা গেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেনও কমেছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যার প্রভাব পুঁজিবাজারেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে বাজারে লেনদেন কিছুটা অস্থির ও ঢিলেঢালা অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বাজারে পতন, আবার কিছুটা স্থিতিশীলতা এলে উত্থান— এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত কয়েকদিন পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় টানা উত্থান ঘটেছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী সময়ে দর সংশোধন হয়েছে, যা বাজারের নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডিএসই’র তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ডিএসইএক্স সূচক ১৫.৬১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩০০.৫৭ পয়েন্টে। একই সময়ে ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ৮.৫৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৬.৬৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৫৬.৬৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭.৭৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
এদিন ডিএসই-তে মোট ৩৯২টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০২টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, ২২৩টির দর কমেছে এবং ৬৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমার কারণে প্রধান বাজারে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় কমেছে। ডিএসই-তে মোট প্রায় ৯৫৬ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল প্রায় ৯৮২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ২৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধারা দেখা গেছে। এদিন সিএসইতে মোট ২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়, যা আগের দিনের ২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকার তুলনায় কম।
সিএসই-তে লেনদেন হওয়া ২১৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮০টির দর বেড়েছে, ১১০টির দর কমেছে এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এছাড়া, সিএসই’র সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৫.৭৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৪০.৬৭ পয়েন্টে। এর আগের কার্যদিবসে সূচকটি ৪৪.৭২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল।