বুথফেরত সমীক্ষার ফল সত্যি হলে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে বিজেপি। কিন্তু বিজেপির জয়ের আভাস দেওয়ার সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দাবি, বিজেপি টাকা দিয়ে এই জরিপ করিয়েছে এবং মূল ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল এবার ২২৬টিরও বেশি আসন পাবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দ্বিতীয় ও শেষ দফার নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এ সময়ে ভোট পড়ে ৯১ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিভিন্ন বুথফেরত জরিপে ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির জয়ের আভাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ‘যেটা টিভিতে দেখাচ্ছে, এটা বিজেপির অফিস থেকে পাঠানো হয়েছে। বেলা ১টা ৮ মিনিটে এটা সার্কুলেট করেছে। টাকা দিয়ে বলেছে, এটা যেন দেখানো হয়। তার কারণ আমার কাছে স্পেসিফিক ইনফরমেশন এসেছে ১টা ৮ মিনিটে। জোর করে সংবাদমাধ্যমকে এটা করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা ২২৬ ক্রস করব। ২৩০-ও পেয়ে যেতে পারি। মানুষ যেভাবে ভোট দিয়েছেন, আমার পুরো ভরসা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এত রোদের মধ্যেও, এত অত্যাচার সহ্য করেও আপনারা যেভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। আমার কর্মীদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। ওরা প্রাণপণ লড়াই করেছে। অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে। যারা বাংলাকে জব্দ করতে চেয়েছিলেন, তারা ভোটবাক্সে জব্দ হয়ে গিয়েছেন।’
দ্বিতীয় দফায় ভোট দিয়েছেন তিন কোটি ২১ লাখের কিছু বেশি মানুষ। ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে এক হাজার ৪৪৮ প্রার্থীর। এর মধ্যে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভারতের কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির সভাপতি শুভেন্দু অধিকারীসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা ছিলেন। পাশাপাশি ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে বাম ফ্রন্ট, কংগ্রেস, আইএসএফ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের।
বিজেপির মিথ্যা প্রচারের একটি কারণ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আসল সত্যিটা বেরোলে শেয়ার বাজারে ধস নামবে। সেজন্য শেয়ার মার্কেটকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে (এটা করেছে)… এটা আমার কাছে স্পেসিফিক খবর আছে।’
ফল নিজেদের পক্ষে আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি দলের কর্মী-সমর্থকদের চুপচাপ না থাকারও কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ভোটগণনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চূড়ান্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ থেকেই ইভিএম পাহারা দিতে হবে।’ প্রয়োজনে তিনি নিজেও পাহারায় নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।’
ভোটগণনার দিন গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলের পোলিং এজেন্টদের কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্র না ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘খেতে বা শৌচালয়ে গেলেও বিশ্বস্ত কাউকে বসিয়ে যেতে হবে।’ তিনি নিজে সাংবাদিক বৈঠক না করা পর্যন্ত এজেন্টদের গণনাকেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, অন্যথায় ইভিএমে কারচুপি হতে পারে।
এবারের অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে শেষ পর্যন্ত বিজেপি সরকার গড়বে।
সাতটি বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফলের পাঁচটিতে বিজেপি এগিয়ে, আর মাত্র দুটিতে তৃণমূল এগিয়ে আছে।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ২০২১ সালের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল তৃণমূল। বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। ম্যাট্রিজের বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। তৃণমূল পেতে পারে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন। অন্যান্য (বাম-কংগ্রেস ও নির্দল) ৬ থেকে ১০টি আসন।