ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন দুই আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানির শুরুতে আসামিপক্ষের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে বিচারক মোহিতুল হক মামলার তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান এবং আসামিদের কাছে অভিযোগ স্বীকারের বিষয়ে জানতে চান।
জবাবে রাশেদ খান মেনন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার চান। অন্যদিকে কামরুল ইসলাম অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়ে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য করেন।
শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন বিভিন্নভাবে উসকানি দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ে থেকে তারা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি কারফিউ জারিতে প্ররোচনা দেন বলে অভিযোগ করা হয়। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশ এলাকায় গুলিতে ২৩ জন নিহত হন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।