ঢাকা: গত বছর তথা ২০২৫ সালে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহ বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশে নিট এফডিআই এসেছে ১৭৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যেখানে ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল ১২৭ কোটি ডলার।
মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক-এর হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে এফডিআই বাড়লেও এর গঠনগত দিক বিশ্লেষণ করলে কিছু সতর্কতার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। কারণ নতুন করে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের গতি এখনও খুব ধীর।
একটি নির্দিষ্ট বছরে মোট বিদেশি বিনিয়োগ বলতে বিদেশি উদ্যোক্তাদের নতুন মূলধন (ইক্যুইটি), পূর্ববর্তী বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণের সমষ্টিকে বোঝানো হয়।
অন্যদিকে, পুঁজি প্রত্যাহার, মূল কোম্পানিকে ঋণ প্রদান এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণ পরিশোধ বাদ দিয়ে নিট এফডিআই নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নিট নতুন বিনিয়োগ বা ইক্যুইটি এসেছে ৫৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালে একই খাতে বিনিয়োগ ছিল ৫৪ কোটি ৪৬ লাখ ডলার।
এতে স্পষ্ট, বিদেশি উদ্যোক্তাদের নতুন করে বিনিয়োগের প্রবণতা এখনও আশানুরূপ নয়।
গত বছর নিট এফডিআইয়ের বড় একটি অংশ এসেছে পুনর্বিনিয়োগ আয় থেকে। এ খাতে এসেছে ৭৮ কোটি ১৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি।
এটি ইঙ্গিত দেয়, দেশে ইতোমধ্যে কার্যরত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মুনাফার একটি বড় অংশ পুনরায় বিনিয়োগ করছে—যা ব্যবসায়িক পরিবেশে আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এফডিআই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সামনে এসেছে আন্তঃকোম্পানি ঋণ। ২০২৫ সালে এ খাতে এসেছে ৪৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩১৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি।
গত ২০২৪ সালে এই খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।