ঢাকা: সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে এই যৌথ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অধিবেশন শেষে পরিবেশমন্ত্রী জানান, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ ও সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাস্তবায়ন কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোতে জেলা প্রশাসনই হলো যেকোনো সরকারি কর্মসূচি তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি। তাই বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বৃক্ষরোপণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ডিসিদের সহায়তা ছাড়া সফল করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বন বিভাগের গেজেটভুক্ত ভূমিগুলো রেকর্ডভুক্ত করা, পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং বেদখলকৃত বনভূমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় যাতে কোনো শিল্পকারখানা গড়ে না ওঠে, সে বিষয়েও অধিবেশনে গুরুত্বারোপ করা হয়।
একই অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান জেলা প্রশাসকদের জেলার সার্বিক সমন্বয় সাধনের নির্দেশ দেন। বিশেষ করে পার্বত্য জেলাগুলোতে পাহাড় কাটা ও বৃক্ষ নিধন রোধে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া জুম চাষের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো মাঠ পর্যায়ে যথাযথভাবে পৌঁছে দিতেই এই দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।