যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক টানা হামলার পরেও ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় অংশ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ ঘাঁটি আংশিক বা পুরোপুরি সচল রয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিতেই এখন কার্যকরভাবে প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে তেহরান। এর ফলে ওই কৌশলগত জলপথে চলাচলকারী মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান বিভিন্ন স্থানে মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র স্থানান্তর এবং কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি উৎক্ষেপণের সক্ষমতা ধরে রেখেছে। হরমুজ প্রণালির পাশে থাকা মাত্র তিনটি ঘাঁটি এখনো পুরোপুরি অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য মতে, দেশজুড়ে ইরান এখনো তার প্রায় ৭০ শতাংশ মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান সচল রেখেছে এবং যুদ্ধ শুরুর আগের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদেরও প্রায় ৭০ শতাংশ ধরে রাখতে পেরেছে। এর মধ্যে রয়েছে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও স্বল্পপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।
যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বারবার দাবি করে আসছিলেন, যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে প্রকাশিত এ প্রতিবেদন মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, হামলার ধাক্কা কাটিয়ে ইরান দ্রুত তার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো সচল করতে পেরেছে। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মোবাইল লঞ্চার ব্যবস্থার কারণে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখনও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অটুট রয়েছে।