ঢাকা: লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে মারা গেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার কারিনা কায়সার। মাত্র কিছু দিনের অসুস্থতা ও জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো এই অভিনেত্রীর অকাল মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মেয়ের নিথর দেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা শোকস্তব্ধ কায়সার হামিদের কণ্ঠে এখন শুধু অসহায়ত্ব আর বিদায়ের বেদনা। কারিনার মরদেহ দেশে আনা, জানাজা ও দাফনের বিষয়ে কায়সার হামিদ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রয়োজনীয় সব আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে রোববার (১৭ মে) দুপুরে তার মরদেহ দেশে আনা হবে। তিনি আরও বলেন, এরপর বাদ আসর ঢাকার ডিওএইচএস মাঠে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং জানাজা শেষে গজারিয়ায় নানির বাড়িতে তাকে দাফন করা হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন কারিনা কায়সার। ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসার শেষ মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে কায়সার হামিদ বলেন, হাসপাতালে ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ অনেক নিচে নেমে যায় এবং এরপর আর চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি।
জানা গেছে, একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দিয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার (১১ মে) রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল এবং চিকিৎসকেরা ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কনটেন্ট নির্মাণের পাশাপাশি কারিনা কায়সার একজন দক্ষ চিত্রনাট্যকার ও অভিনেত্রী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’-এ তার অভিনয় দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।