ঢাকা: সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন-এর সঙ্গে জাতিসংঘের নারী সংস্থা ইউএন উইমেনের রিপ্রেজেন্টেটিভ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মিস নিয়ারাদজাই গুম্বনজভান্দা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
রোববার (১৭মে) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারকরণ, নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে চলমান বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারী পরিবারের প্রধানদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিম গঠন ও কার্যক্রম জোরদারকরণ, আইনি সহায়তা প্রদান এবং কেয়ার ইকোনমির, কেয়ার গিভারসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উন্নয়ন বিষয়ে অগ্রাধিকারভুক্ত কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সুবিধাভোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো সহজে খাদ্য, পুষ্টি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা পায়। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা হটলাইন ১০৯-এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে এবং এই টিম ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার, চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও আইনি সহায়তা প্রদান করে। তিনি আরও বলেন, কেয়ার ইকোনমির মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, গৃহস্থালী কাজের স্বীকৃতি প্রদান এবং নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ ছাড়া আইনি সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে যাতে নির্যাতিত নারী ও শিশুরা সহজে বিচার পায়।
ইউএন উইমেনের ডেপুটি ডাইরেক্টর মিস নিয়ারাদজাই গুম্বনজভান্দা সাক্ষাতে বাংলাদেশ সরকারের নারী ও শিশু কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নারী ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ সমতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ইউএন উইমেন বাংলাদেশ সরকারের সাথে নারী ও শিশু সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কেয়ার ইকোনমি ও কেয়ার গিভার ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধির আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে যৌথ প্রকল্প গ্রহণ, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচি, তথ্য বিনিময় এবং কেয়ার গিভার, ভাষা শিক্ষা, নারী ও শিশু বিষয়ক নীতি ও স্কীল বাস্তবায়নে টেকনিক্যাল সহায়তা প্রদানের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। এ সময় ইউএন উইমেন এর রিজিওনাল ডাইরেক্টর ক্রিস্টিন আরব এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের রিপ্রেসেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং সহ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন।