চট্টগ্রাম: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দীন বলেছেন, গ্রাফিতি অঙ্কন করার সময় পুলিশ জুলাইয়ে সম্মুখসারির নারী যোদ্ধাদের গায়ে হাত দিয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দিলে কী হয়- পুলিশ জুলাই থেকে শিক্ষা নেয়নি।
সোমবার (১৮ মে) বিকেলে নগরীর ষোলোশহরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, “চট্টগ্রামের ফ্লাইওভারের পিলারের প্রায় সব গ্রাফিতি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মুছে দিয়েছেন এবং সেখানে বিজ্ঞাপনের জন্য ভাড়া দেওয়া হবে বলে প্রচার করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমরা পুনরায় গ্রাফিতি আঁকতে গেলে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও অসদাচরণ করা হয়েছে। “জুলাই আন্দোলনে যারা সম্মুখসারিতে ছিল, সেই নারী যোদ্ধাদের গায়েও হাত দেওয়া হয়েছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়,” বলেন তিনি।
আরিফ মঈনুদ্দীন আরও বলেন, “মেয়র শাহাদাত পুলিশ ও দলীয় গুণ্ডাবাহিনী পাঠিয়ে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছেন। যদিও ঘটনাস্থলে কিছু পুলিশ সদস্য দায়িত্বশীল আচরণও করেছেন।”
তিনি বলেন, পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নিউমার্কেট এলাকায় যান এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা লালখানবাজার এলাকায় অবস্থান নেয়।
মেয়রকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে দায়িত্বে এসেছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, “গ্রাফিতি শুধু একটি চিত্র নয়, এটি জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও আবেগের অংশ। সেটি মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।” তিনি অভিযোগ করেন, গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ওপর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করেছে। পরে বিভিন্ন এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থানও নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নগরীর জলাবদ্ধতা, মশক সমস্যা, ফুটপাত দখল এবং বিপ্লব উদ্যান এলাকায় মার্কেট নির্মাণ নিয়েও চসিক মেয়রের সমালোচনা করেন এনসিপি নেতারা।