Monday 18 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রবাসী পল্লীর মহিদুরের রিটের ‘ফাঁদে’ হাজারো গ্রাহক, নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা!

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৮ মে ২০২৬ ২২:০৫

প্রবাসী পল্লী লিমিটেড। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহিদুর রহমান। তিনি সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের) হাবিবুর রহমানের ভাই। এই মহিদুরের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিটের অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ বছরে বিভিন্ন মামলার রিটকে প্রভাব ও কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে তিনি অবৈধভাবে সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অনেকেই দাবি করেছেন।

সেই সঙ্গে মহিদুর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পুনর্বাসনেরও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন সামাজিক, সাংগঠনিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফের সংগঠিত ও সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে তার মাধ্যমে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের ফের একত্রিত করার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে মহিদুর রহমান পরিচালিত বিভিন্ন আর্থিক ও বিনিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়ে তার প্রতিষ্ঠানের নামে। এতে করে হাজার হাজার গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিনিয়োগের নামে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অনেকেই এখন পর্যন্ত তাদের অর্থ ফেরত পাননি। এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ হয়ে হারুন সরকার নামে এক গ্রাহক প্রতিকার চেয়ে নরসিংদীর মাধবদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বনানীর প্রবাসী পল্লী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিদুর রহমান। প্রায় এক বছর আগে মাধবদী এলাকার কান্দাইল মৌজার প্রায় পাঁচ একর জমি রাতের আঁধারে দখল করে নেয়। এর পর সেখানে বালি ভরাট করে ফেলে। তারপর সেখানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পাকা দেয়াল নির্মাণ করতে গেলে আমরা বাধা দিই। এই অবস্থায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে মারধর করা হয়। হত্যার হুমকিও দেয় তারা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মহিদুরের লোকজন হুমকি দেয় যে, মামলা প্রত্যাহারসহ জমি প্রবাসী পল্লীর নামে লিখে দিতে হবে। না হলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। পরবর্তী সময়ে সকলের ন্যায্য পাওনা বুঝিযে দিতে চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন মহিদুর। সেই রিটের কারণে আমরা আমাদের ফসলি জমি এখনো ফেরত পাইনি। এমনকি জমির মুল্যও কেউ ফেরত পায়নি। তাই আইনানুগ সমাধান প্রত্যাশা করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘একটা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মহিদুর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ফোন নম্বরে কল করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর