ঢাকা: অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় আগামী ২৩ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (২০ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন চারজন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে সাক্ষীদের জেরা করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৩ জুন দিন নির্ধারণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহানুর রহমান।
এর আগে, গত ৩ মে একই আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলাটি দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দায়ের হওয়া এ মামলায় তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়।
চার্জশিট অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বেশি অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। কিন্তু তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তদন্তে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য উঠে আসে। বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া যায় ৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকার তথ্য। ব্যয় বাদ দিলে তার নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার কিছু বেশি। ফলে তদন্তে ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চার্জশিটে আরও বলা হয়, অবৈধ অর্থের উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করতে বেনজীর আহমেদ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।