চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর একটি ক্যাম্পে গুলি চালিয়েছে সন্ত্রাসী ইয়াসিনের অনুসারীরা।
রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৫ মে) ভোর থেকে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী। হামলার সময় যৌথবাহিনীর সঙ্গে দুই ঘণ্টা ধরে গুলিবিনিময় হয়েছে।
হামলার খবর নিশ্চিত করে র্যাব-৭ এর কমান্ডিং কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ রাতের অন্ধকারে ক্যাম্পে হামলা চালায়। আমরা নন-লিথাল অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। পরে পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’
জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সরকারি খাসজমি হওয়ায় এলাকাটিতে কারাগার, আইটি পার্ক নির্মাণসহ ১১টি প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বেহাত হওয়া জমি পুনরুদ্ধার করতে না পারায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দুটি অংশে বিভক্ত একদিকে ছিন্নমূল এলাকা, অন্যদিকে আলীনগর। দুটি অংশেই পাহাড় কেটে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও মার্কেট।
সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসের তথ্যমতে, জঙ্গল সলিমপুরের মোট আয়তন প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর। প্রায় চার দশক ধরে এই এলাকা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় র্যাবের আরও তিন সদস্য এবং মনা নামে একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। নিহত মোতালেব বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র্যাবে কর্মরত ছিলেন।
র্যাবের দাবি, যাকে গ্রেফতার করতে টিমটি গিয়েছিল, তিনি একাধিক মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি এবং অস্ত্র লেনদেন চক্রের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ ও র্যাব সূত্র জানায়, হামলাকারীদের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, পাহাড়ি দখল গোষ্ঠী এবং অস্ত্র বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন থাকতে পারে।
গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য এ অভিযানে অংশ নেয়। এ অভিযান শেষে এলাকাটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে যৌথবাহিনী। সেখানে যৌথ বাহিনীর দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সেই থেকে ওই এলাকা শান্ত থাকলেও রোববার রাতে আবার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।