ঢাকা: ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও এখনো শেষ হয়নি ঘরমুখো মানুষের স্রোত। ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিন আজ শুক্রবারও রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। কর্মব্যস্ততা, ছুটির অভাব কিংবা ঈদ যাত্রার যানজট এড়াতে যারা ঈদের আগে বাড়ি যেতে পারেন নি, তারা এখন প্রিয়জনের টানে ছুটছেন গ্রামের বাড়ি।
আজ সকালে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং বিভিন্ন কাউন্টারে যাত্রীদের বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে ঈদের আগের মতো চিরচেনা যানজট বা ভোগান্তি না থাকায় এবারের যাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক ও আরামদায়ক বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। স্টেশনের নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়াও মহাসড়কের বিভিন্ন মোড় থেকে যাত্রীদের বাসে উঠতে দেখা গেছে।
প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে যাওয়া গৃহিনী তাবাসসুম বলেন, ‘এবার ঈদের মূল দিনটা ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে কেটেছে। সেখানেই কোরবানি দেওয়া হয়েছে, সবাই মিলে অনেক আনন্দ করেছি। আর আজ ঈদের দ্বিতীয় দিনে যাচ্ছি নিজের বাবার বাড়িতে। শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ি, দুই জায়গাতেই ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছি, তাই এবার আমার খুশিটা একটু বেশিই।’

– ছবি : সারাবাংলা
রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তুলি আক্তারের। চোখে-মুখে তার আনন্দের আভাস। তিনি বলেন, ‘আমাদের বেশিরভাগ আত্মীয়-স্বজন এবার ঢাকাতেই ছিলেন। তাই ঈদের দিনটা সবার সাথে বেশ কেটেছে, কোরবানিও ঢাকায় হয়েছে। আজ কোরবানি দেওয়া মাংস সাথে নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। সেখানে বাকি আত্মীয়দের সাথে দেখা হবে, আবার নতুন করে উৎসব হবে। এই দুই দিক সামলানোর মাঝেই যেন আমার ঈদের পূর্ণতা।’
সায়েদাবাদ কাউন্টারে অপেক্ষারত বেসরকারি চাকুরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগের দিনগুলোতে বাসের টিকিট পাওয়া যেমন ভাগ্যের ব্যাপার, তেমনি রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকতে হয়। সেই ভোগান্তি এড়াতে আর ফাঁকা রাস্তায় শান্তিতে ভ্রমণ করতেই ঈদের পরদিন গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিবার পরিজন সবাই গ্রামে আছে, দেরিতে হলেও তাদের কাছে কোনো ঝামেলা ছাড়াই, কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই পৌঁছাতে পারছি এটাই বড় শান্তির।’
আজকের যাত্রাতেও বেশি ভাড়ার অভিযোগ থাকলেও যাত্রীরা নির্ভেজালভাবে গ্রামে প্রিয়জনের কাছে যেতে পারছেন, এতেই খুশি।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের পরের দিন সাধারণত যাত্রী কম থাকলেও রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকায় বাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে, যা যাত্রীদের দিচ্ছে ক্লান্তিহীন ভ্রমণ।