Sunday 31 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০ লাখ ইউরো অনুদান দেবে ফিনল্যান্ড

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
৩১ মে ২০২৬ ১৮:২২

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জীবন রক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষায় নতুন করে ২০ লাখ ইউরো অনুদান ঘোষণা করেছে ফিনল্যান্ড সরকার। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। মূলত শরণার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরির মতো যেসব খাতে এতদিন তহবিলের ঘাটতি ছিল, তা পূরণে এই অর্থ ব্যবহৃত হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ নাজুক। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিবার কাজের বিনিময়ে আয়ের সুযোগ পেয়েছিল। ৪২ শতাংশ পরিবারের আয়ের উৎস ছিল অস্থায়ী ও অনিশ্চিত। আর ৩৫ শতাংশ পরিবার কোনো আয় ছাড়াই সম্পূর্ণভাবে ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে আসা প্রায় দেড় লাখ নতুন শরণার্থী চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইসেন এই অনুদানকে ফিনল্যান্ডের ‘অসাধারণ উদারতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার প্রচেষ্টা এখন একটি নাজুক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে — যা ক্রমহ্রাসমান তহবিল, ক্যাম্পের অবনতিশীল পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান সুরক্ষা ঝুঁকি এবং মিয়ানমারে চলমান অস্থিতিশীলতাই এর প্রমাণ। এই পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের বর্ধিত প্রতিশ্রুতি তাদের অসাধারণ উদারতার প্রমাণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করার ক্ষেত্রে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বকে এটি পুনরায় নিশ্চিত করে।’

নয়াদিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসের অন্তর্বর্তীকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মারি আহমেদ বলেন, ‘ফিনল্যান্ড বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাস্তুচ্যুতির প্রায় এক দশক পরও রোহিঙ্গা জনগণ এখনও তাদের জীবন পুনর্গঠনের সুযোগের অপেক্ষায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক সহায়তার পাশাপাশি আমাদের রোহিঙ্গাদের একটি উন্নত ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে — দক্ষতা ও স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলায় সহায়তা, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের দুর্দশা যেন বৈশ্বিক দৃষ্টি থেকে হারিয়ে না যায় তা নিশ্চিত করা।’

গত ২০ মে জাতিসংঘ রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় ২০২৬ সালের জন্য ‘যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা’ (জেআরপি) হালনাগাদ করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের জন্য ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলারের আবেদন জানানো হয়েছে। বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে এর প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থায়ন সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষায় ফিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। চলতি বছর তারা ইউএনএইচসিআর-এর মূল তহবিলে অতিরিক্ত ৭০ লাখ ইউরো প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা যেকোনো জরুরি বিপর্যয় মোকাবিলায় সংস্থাটিকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর