মিয়ানমারের শান প্রদেশে চীন সীমান্তের কাছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ)নিয়ন্ত্রিত একটি গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয় শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৭৪ জন। আহতদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে কাওং তাত গ্রামে এ ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে ঘটনাস্থলে প্রথমে ধোয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। পরে সেখানে একটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ধারণা, বিমান হামলার কারণে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। আবাসিক এলাকার এত কাছে এ ধরনের স্থাপনা কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন করছেন তারা।
এদিকে এ ঘটনাকে একটি দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী বিদ্রোহী গোষ্ঠী টিএনএলএ।
গোষ্ঠীটি বলছে, বিস্ফোরণস্থলে সংরক্ষিত বিস্ফোরক স্থানীয় খনিগুলোতে খননকাজে ব্যবহার করা হতো। বিস্ফোরণের কারণে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। এমন বিস্ফোরণ কেন ঘটেছে তা তদন্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারে শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) অন্যতম। গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে।
এএফপি জানিয়েছে, বিদ্রোহীরা দেশটির বিভিন্ন এলাকার খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেগুলোর মাধ্যমে নিজেদের অর্থের ব্যবস্থা করছে। তবে এসব খনিতে নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। যার ফলে বিভিন্ন সময় এসব খনিতে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।