সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা গ্রামের এক নিখোঁজ কিশোরীকে ২৬ দিন পর উদ্ধার করেছে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ব্রহ্মগাছা গ্রামের বাসিন্দা বেলি রানি ভৌমিকের মেয়ে পলি কুমারী ভৌমিক (১৭) গত ৫ মে হঠাৎ নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এ বিষয়ে ৬ মে রায়গঞ্জ থানায় জিডি নম্বর-২৯২ রেকর্ড করা হয়।
নিখোঁজের ঘটনার পরপরই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় রায়গঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরীর অবস্থান শনাক্তের জন্য অনুসন্ধান শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তৎপরতার একপর্যায়ে কিশোরীর অবস্থান গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় শনাক্ত করা হয়।
পরে গত ৩১ মে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার ১ নম্বর কাটাবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ। অভিযানে রায়গঞ্জ উপজেলার কয়রা গ্রামের বাসিন্দা মো. রবিউল আলমের (৪৩) হেফাজত থেকে পলি কুমারী ভৌমিককে উদ্ধার করা হয়। একই সময় অভিযুক্ত রবিউল আলমকে আটক করা হয়।
আটক রবিউল আলম রায়গঞ্জ উপজেলার কয়রা গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি আলাউদ্দিনের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, ‘কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানার পরপরই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
এদিকে, দীর্ঘদিন পর মেয়েকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য রায়গঞ্জ থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কিশোরীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত তদন্ত পরিচালনা এবং আন্তঃজেলা সমন্বয়ের মাধ্যমে পুলিশ যে সফলতা দেখিয়েছে, তা নিখোঁজ ও অপহরণসংক্রান্ত মামলার তদন্তে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।