Saturday 06 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইউরোপ-কানাডায় পাঠানোর নামে জাল ভিসা দিয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ৩

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৬ জুন ২০২৬ ১৫:৪২

ঢাকা: ইতালি, জার্মানীসহ ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে এবং কানাডায় পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪)। চক্রটি উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচার ও প্রতারণা করে আসছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে মিরপুর পাইকপাড়ায় র‌্যাব-৪ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিপিসি কমান্ডার কে এন রায় নিয়তি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ বেকার যুবকদের টার্গেট করে বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছে। এমন একজন ভুক্তোভোগী ইমরান হোসেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন মো. বাদল ও নার্গিস বেগম দালাল আর এজাজুল হক ওরফে রতন ট্রাভেল এজেন্সির মালিক।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় ভিকটিম ইমরান ডিএমপির শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেছেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৪ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে।

মামলার এজাহার ও আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বাদী ইমরান হোসেন গাজীপুরের স্থানীয় অধিবাসী এবং একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কোয়ালিটি কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টে চাকরি করত। আসামি মোছা. নার্গিস বেগম ও মো. বাদল গাজীপুরের বাড়ির পাশে বেশ কয়েক বছর আগে সেখানে বাড়ি করে বসবাস শুরু করে। সেই সুবাদে তাদের সঙ্গে বাদীর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। আসামিরা অত্র মামলার বাদী ইমরানকে ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখায়। তখন বাদী বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে তারা তাদের পরিচিত এজেন্টের মাধ্যমে ইতালি পাঠাতে পারবে বলে জানায়। পরবর্তীতে তারা বাদীকে আসামি রতনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। আসামি রতন বাদীকে ২২ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালিতে পাঠানোর প্রস্তাব করলে বাদী রাজি হয়। গত ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর বাদী শাহ আলী থানাধীন মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্সে আসামি রতনের অফিসে এসে নগদ ৭০ হাজার টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় ও তারিখে বাদী আসামিদেরকে পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছে। আসামি রতন বাদীকে কিছু কাগজপত্র প্রদান করে এবং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে আসামি রতন বাদীকে জানায় যে ইতালি সরকার লোক নেওয়া বন্ধ করেছে তাই তাকে ইতালি পাঠাতে পারবে না।

পরবর্তীতে আসামিরা বাদীকে জার্মানী পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। তাদের দেওয়া প্রস্তাবে রাজি হয়ে জার্মানী যাওয়ার জন্য আরও ৩ লাখ টাকা দেয়। টাকা দেওয়ার এক মাস পরে আসামিরা জানায় তার কাগজপত্রে কিছু ত্রুটি থাকার কারণে তাকে জার্মানী পাঠাতে পারবে না। তবে তারা বাদীকে কানাডাতে পাঠানোর আশ্বাস দেয়। বাদী সরল বিশ্বাসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ভিসা, মেডিকেল ও বিমানের টিকিট বাবদ বিভিন্ন সময়ে আসামিদেরকে আরও ১১ লাখ টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে বাদীকে বিদেশে না পাঠিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরাতে থাকে। গত জানুয়ারি মাসে বাদী আসামী রতনের অফিসে এসে জানতে পারে তার অফিস কয়েক মাস পূর্বে বন্ধ করে দিয়েছে। পরে জানতে পারে যে, আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর নিকট হতে আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করেছে। পরবর্তীতে আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে মামলা করে।

এরপর গতকাল ঢাকার মিরপুর ও আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে এবং সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করে। এই চক্রের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছে এরকম আরও কয়েকটি রিপোর্ট এসেছে।

সারাবাংলা/ইউজে/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর