ঢাকা: আবাসন ব্যবসার নামে শতাধিক গ্রাহকের নিকট থেকে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লি. এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে (৫৪) গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রোববার (১০ মে) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ৪৭০ জন গ্রাহকের নিকট থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা প্রতারণাপূর্বক আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করা হয়। মামলার প্রধান আসামি হায়দার কবির মিথুন শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, মামলাটি তদন্তকালে জানা যায়, গ্রেফতার হায়দার কবির মিথুন কোম্পানির ডিএমডি পদে থেকে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডেরি সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মামলা দায়েরের পর তার ব্যবহৃত সব মোবাইল নাম্বার বন্ধ রেখে বিদেশে আত্মগোপনে চলে যান। মামলাটি তদন্তকালে তার বিরুদ্ধে আরও ৫টি প্রতারণা মামলার তথ্য পাওয়া যায়। এরমধ্যে তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল।
তিনি বলেন, মামলাসংক্রান্ত তথ্যাদির জন্য গ্রেফতার হায়দার কবির মিথুনের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সতর্ক ও আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লি. নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উত্তরখান থানা এলাকায় ১০ কাঠা জমির উপর (জি+৯) তলা বিশিষ্ট ৪ ইউনিটের একটি ভবন নির্মাণ করে মোট ৩৬টি শেয়ার বিক্রয়ের প্রচারণা চালানো হয়। প্রচারণায় প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে বাদীসহ বিভিন্ন গ্রাহক কোম্পানির উত্তরা সেক্টর-৪ এর অফিসে গিয়ে শেয়ার ক্রয়ের উদ্দেশ্যে অর্থ বিনিয়োগ করেন। বাদী ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে ১ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা কোম্পানির অফিসে দেন। এ সময় কোম্পানির তৎকালীন এমডি মো. শিশির আহমেদ, ডিএমডি হায়দার কবির মিথুন, ফিন্যান্স ডিরেক্টর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহার, আইটি ও একাউন্টস ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম (জাহিদ) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বাদীর এক বন্ধুও ৯ লাখ টাকা দেন।
অভিযুক্তরা গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কোম্পানির নিজস্ব মানি রিসিট ও চেক প্রদান করলেও পরবর্তীতে শেয়ারভুক্ত জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেয়নি, বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে গ্রাহকরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আসামিরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া থ্রি-স্টার হোটেল ও মৌজার জমির শেয়ার বিক্রয়ের নামে আনুমানিক ৪৭০ জন গ্রাহকের থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা প্রতারণাপূর্বক আত্মসাৎ করেছে।
এরপর বাদী ও অন্যান্য গ্রাহকরা পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে গ্রাহকরা জানতে পারেন, কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদের নোটিশে জানানো হয়, ২০২২ সালের জুন মাস হতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কোম্পানিতে যারা আর্থিক লেনদেন করেছে সে দায়ভার তারা গ্রহণ করবেন না।