নেত্রকোনা: জেলার মদনে ১১ বছর বয়সি শিশুকে ধর্ষণের পর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরের দিকে পুলিশের সাতদিনের রিমান্ড দাবির পর অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহসিনা ইসলাম আদালতে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ দেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট নূরুল কবির রুবেল রিমান্ড মঞ্জুরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত মঙ্গলবার (৫ মে) ভোররাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৪। এরপর বুধবার (৬ মে) বিকেলে তাকে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় মদন থানা পুলিশ সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করে।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি সাগর মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামে হযরত ফাতেমা তুজ জোহরা (রা) কওমি মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও পরিচালক।
ভুক্তভোগী ধর্ষণের শিকার শিশুটি ওই এলাকার স্বামী পরিত্যক্ত এক গৃহপরিচারিকার মেয়ে। জীবিকার প্রয়োজনে তার মা সিলেটে থাকেন। এজন্য শিশুটি নানীর তদারকিতে থেকে এ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক সাগর জোরপূর্বক শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ না করতে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েক মাস ধরে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ রাখে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল ছুটি নেওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকও পালিয়ে যান। পরে গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়েরের পর আসামি গ্রেফতার হয়।