যশোর: যশোরে নেশার টাকা না পেয়ে ছামিনা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে হত্যার পর ঘাতক স্বামী সুজন (২৬) নিজেও নিজের শরীরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গুরুতর আহত সুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) ভোর ৬টার দিকে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তামালতলা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ছামিনা আক্তার সদর উপজেলার তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের সুজনের স্ত্রী। অভিযুক্ত স্বামী সুজন টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার গয়হাটা (শান্তিনগর) গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তারা শেখহাটি তামালতলা এলাকায় ইমরাজের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, আজ ভোরে নেশার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো চাকু দিয়ে স্ত্রী ছামিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে ছামিনা রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্ত্রীকে রক্তাক্ত করার পর সুজন নিজেও একই চাকু দিয়ে নিজের শরীরে আঘাত করে গুরুতর জখম হন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দুজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ছামিনা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া গুরুতর আহত স্বামী সুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
নিহত ছামিনার মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে তারা বিয়ে করেন এবং পরে আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে সুজন বেকার ছিলেন এবং পুনরায় বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম বলেন, ছামিনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া সুজনের শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে গিয়েছে। নিহত গৃহবধূ ছামিনার মরদেহ ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।