বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে ঘটতে যাচ্ছে বিরল এক ঘটনা। এর আগে দুই দেশ কখনোই দুবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়নি। ২০১০ সালের পর ২০২৬ আসরেও টুর্নামেন্ট শুরু হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে। দুই দেশই তাই গড়তে যাচ্ছে অনন্য এক ইতিহাস।
টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক হিসেবে গ্রুপ ‘এ’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে এবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে আতিথেয়তা দেবে মেক্সিকো। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে এ দুই দলের ম্যাচ দিয়েই মাঠে গড়াবে ৪৮ দলের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ। উদ্বোধনী ম্যাচে থাকবেন ৮০ হাজারের বেশি দর্শক।
বিশ্বকাপের মঞ্চে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হয়েছে মাত্র একবার। ২০১০ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচটি ১-১ এ ড্র হয়েছিল। দুই দলের সর্বশেষ দেখাও সেই ম্যাচেই। এর আগে আরও তিনবার মুখোমুখি হয়েছে দুই মহাদেশের দুই দল। ১৯৯৩ সালের প্রথম দেখায় আফ্রিকাকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে মেক্সিকো। ২০০০ সালেও একই ব্যবধানে আফ্রিকার দেশটিকে হারায় তারা। ২০০২ সালে ২-০ গোলের জয়ে হারের বদলা নেয় আফ্রিকা।
নিজেদের ১৮তম বিশ্বকাপ খেলবে মেক্সিকো। খেলা যখন নিজের মাঠে, মেক্সিকোর ওপর চাপটাও থাকবে বেশি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কোচ হাভিয়ের আগুইরের দল আছে দারুণ ছন্দে। টানা আট ম্যাচ অপরাজিত থেকেই বিশ্বকাপে মাঠে নামবে তারা। সবশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে সার্বিয়াকে ৫-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আফ্রিকার জন্য তাই অপেক্ষা করছে বড় চ্যালেঞ্জ। কোচ হুগো ব্রুসের নেতৃত্বে বাছাই পর্বে ভালো পারফর্ম করা দলটি চমক দেখিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রত্যাশা রাখছে।
র্যাংকিংয়ে আফ্রিকার চেয়ে বেশ এগিয়ে মেক্সিকো, তারা আছে ১৪তম স্থানে। দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান র্যাংকিংয়ের ৬০তম স্থানে। কৌশলগত দিক থেকে মেক্সিকোর লক্ষ্য আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা। বল দখলের লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেললে পাবে বাড়তি সুবিধা। স্বাগতিক হওয়ায় গ্যালারির সমর্থনও পুরোটাই পাবে মেক্সিকো।
অতীত ইতিহাস কিংবা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান, এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে কাগজে-কলমে ফেভারিট স্বাগতিক মেক্সিকোই। ঘরের মাঠ, ভালো ফর্ম এবং অভিজ্ঞ স্কোয়াড; সবদিকেই এগিয়ে তারা।
তবে ম্যাচটা যেহেতু বিশ্বকাপে, তাও আবার উদ্বোধনী ম্যাচ; চাপ থাকবে দুই দলের ওপরই। কোন দল চাপ সামলে পারফর্ম করতে পারবে, তার জানা যাবে আজ রাত ১টায়।