Friday 12 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শিশুশ্রম নির্মূলে জন্ম সনদের আইনি বাধ্যবাধকতা অপরিহার্য

‎সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১২ জুন ২০২৬ ১২:৪২

‎ঢাকা: বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস আজ শুক্রবার ১২ জুন। এবারের মূল আহ্বান হচ্ছে, শিশুদের জন্য সুন্দর পরিবেশ ও বড়দের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ তৈরি করে শিশুশ্রমকে পুরোপুরি বিদায় জানানো। এই লক্ষ্য অর্জনে এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে রাষ্ট্রীয় জন্ম নিবন্ধন। একটি শিশুর নাগরিক স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষার প্রথম ভিত্তি হলো এই নিবন্ধন ব্যবস্থা। দাফতরিক পরিচয় না থাকলে শিশুরা সহজেই শ্রমের বাজারে জড়িয়ে পড়ে এবং নানামুখী শোষণের শিকার হয়।

‎বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা ‘প্রজ্ঞা’-র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের তার প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য জন্ম সনদ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সমাজে শিশুদের ওপর চলমান শোষণ, বঞ্চনা ও শিশুশ্রমের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

‎বর্তমানে দেশের সব শিশুকে এই নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। সার্বিকভাবে দেশে জন্ম নিবন্ধনের গড় হার মাত্র অর্ধেক, আর পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার আরও আশঙ্কাজনক, যা মাত্র ৪০ শতাংশ। এই বিপুলসংখ্যক শিশুর দাফতরিক পরিচয় না থাকায় তাদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে নিয়োগকর্তারা অনায়াসেই তাদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত করার সুযোগ পায়। অথচ একটি সঠিক জন্ম সনদ থাকলে রাষ্ট্রীয়ভাবে শিশুর বয়স প্রমাণিত হয়, যা তাকে আইনি সুরক্ষা দিতে পারে।

‎এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষজ্ঞরা ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’-এ কিছু যুগোপযোগী সংশোধনের পরামর্শ দিচ্ছেন। দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ওপর যদি জন্ম নিবন্ধনের আইনি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, তবে চিত্রটি দ্রুত বদলে যাবে। কারণ বর্তমানে প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, ফলে আইন সংশোধন হলে এই শিশুরা জন্ম নেওয়ার পরপরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে যাবে।

‎এই একটি কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের জন্ম নিবন্ধনের হার যেমন দ্রুত বাড়বে, তেমনি ২০৩০ সালের মধ্যে সিআরভিএস দশকের শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি ৮ দশমিক ৭ অনুযায়ী সব ধরনের শিশুশ্রম ও শোষণ বন্ধের অঙ্গীকার পূরণ ত্বরান্বিত হবে।

‎সারাবাংলা/এনএল/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর