রংপুর: রংপুর বিভাগের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হটাৎ পরিদর্শন করেছেন তিন সংসদ সদস্য।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে হাসপাতালটির চরম অব্যবস্থাপনা ও যন্ত্রপাতির বিপর্যয় দেখেছেন তারা।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলালের নেতৃত্বে এই পরিদর্শনে অংশ নেন রংপুর-৫ আসনের এমপি গোলাম রব্বানী ও রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী। জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ড ও ডায়াগনস্টিক রুম ঘুরে তারা দেখেন অচল হয়ে পড়ে থাকা মেশিনের স্তূপ, যা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমপিদের জানান, বর্তমানে হাসপাতালের ভয়াবহ যন্ত্র সংকটের বিষয়। জানা গেছে, এক্স-রে মেশিন মোট ২৬টির মধ্যে ২৪টিই অচল, যার মধ্যে ২০টি একেবারেই মেরামতের অযোগ্য। মাত্র ৪টি মেরামত করে তোলার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া ৩টি সিটি স্ক্যানের মধ্যে ২টি এবং ৩টি এমআরআই মেশিনের মধ্যে ২টি সম্পূর্ণ অচল ও মেরামতের অযোগ্য।
অন্যদিকে আলট্রাসনোগ্রামের ১৩টি মেশিনের মধ্যে ১০টি অচল, যার মধ্যে ৮টি মেরামতের অযোগ্য।
পরিদর্শনে বেড়িয়ে এসেছে, শুধু ডায়াগনস্টিক মেশিনই নয়, গোটা উত্তরবঙ্গের রোগীদের সেবা দেওয়া এই হাসপাতালে আইসিইউ বেড রয়েছে মাত্র ১০টি। অথচ প্রতি মাসেই আইসিইউতে ভর্তি হওয়া ৭৯ জন রোগীর মধ্যে ২৯ জনের মৃত্যু হচ্ছে। এছাড়া এম্বুলেন্স সংকট ও জনবলের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণেই এখানে দালাল চক্রের আধিপত্য চলছে। দালালদের কাছে আমাদের রোগীরা অসহায়।’ তিনি জানান, যেখানে এই ১০০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার রোগী ভর্তি হয়, সেখানে জনবল এখনো ৬০০ শয্যার পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী।
তিনি বলেন, দালাল চক্র এতটাই শক্তিশালী যে তারা ‘স্বেচ্ছাসেবক’ পরিচয়ে ঢুকে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয় এবং হাসপাতালের কর্মকর্তাদের হুমকি দেয়। সম্প্রতি ইন্টার্নি চিকিৎসকদের দ্বারা লাশ আটকিয়ে রাখা এবং মৃতের ছেলেকে কানধরে উঠাবসা করানোর ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন এমপিরা।
এমপি রায়হান সিরাজী বলেন, একটি বড় সমস্যা হলো অচল মেশিনগুলো স্টোররুমে পড়ে থাকলেও সেগুলো সরাতে না পারা। এসব জিনিস সরাতে তিনটি মিটিংয়ের প্রয়োজন হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রুমগুলো খালি করা যাচ্ছে না। যন্ত্রপাতি সরানোর অনুমতি না পাওয়ায় নতুন মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না। জনবলের অভাবে ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটা দেশের অর্থের অপচয়। রুম খালি করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এমপি বেলাল প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘২০টি এক্স-রে মেশিন তো মেরামতের অযোগ্য। কিন্তু এগুলো নতুন করে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি।’
এমপি গোলাম রব্বানী বলেন, ‘একটা বিভাগীয় শহরের এত বড় হাসপাতালের এই চিত্র খুবই দুশ্চিন্তার। আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত জানাবো।’
রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, আমাদের দায়িত্ব জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই সমস্যার সমাধান করা। রংপুর মেডিকেলকে বিভাগীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সম্মানিত এমপিরা সব খতিয়ে দেখেছেন। তারা যাতে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে তোলেন, আমরা সেটা প্রত্যাশা করি।’