ঢাকা: জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ রেলওয়ের পুরোনো ও অকেজো রেললাইন নিলামে বিক্রি না করার কারণ এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিনে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
পুরোনো রেললাইন কেন নিলামে বিক্রি করা হয় না, তার ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন লাইনে বর্তমানে ট্র্যাক পরিবর্তনের কাজ চলছে। রেল পরিবর্তনের সময় অকেজো বা পুরোনো রেলগুলো প্রাথমিকভাবে কাজের জায়গায় সাময়িকভাবে পড়ে থাকলেও কাজ শেষে এগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, এসব পুরোনো ও অকেজো রেল পরে রেলওয়ের এমব্যাঙ্কমেন্ট প্রটেকশন বা বাঁধ সুরক্ষার কাজে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া অবৈধ লেভেলক্রসিং গেটে রেলফেন্সিং বা বেড়া দেওয়ার কাজেও এগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে এবং বিশাল অঙ্কের আর্থিক ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে। এই কারণে এগুলো নিলামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।
সড়ক দুর্ঘটনা ও মহাসড়কে প্রাণহানি রোধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা বা ‘ব্ল্যাক স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত স্থানগুলোতে দ্রুত সংস্কার কাজ ও সাইন-সিগন্যাল বসানোর কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া এসব স্থানে স্পিডব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং এবং রাম্বল স্ট্রিপ বসানো হচ্ছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’ হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা।
পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিআরটিএ-এর মাধ্যমে এখন দেশব্যাপী পেশাজীবী গাড়িচালকদের জন্য বাধ্যতামূলক রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। লাইসেন্স নবায়নের আগেই চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালকদের কারণে মহাসড়কে যে প্রাণহানি ঘটে, তা প্রতিরোধে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।