Wednesday 17 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের বৈঠক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ জুন ২০২৬ ২১:২৫

– সংগৃহীত ফাইল ছবি

ঢাকা: ইসলামী ব্যাংকের চেয়ামম্যান হিসাবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের পর ব্যাংকটি নিয়ে সকল শঙ্কা কেটে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহক আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে টাকা উত্তলনের হার কমেছে। গত ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত যারা হিসাব ভেঙ্গে টাকা তুলে নিয়েছেন কিংবা অন্য ব্যাংকে তহবিল স্থানানন্তর করেছেন, তাদের মধ্যে অনেকে ব্যাংকে ফিরে আসতে শুরু করেছেন।

এদিকে বুধবার (১৭ জুন) ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম-এর নেতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমদ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ইসমাইল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ফোরামের আহ্বায়ক নুর উন নবী, সদস্যসচিব মুতাছিম বিল্লাহ বৈঠকে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে সংগঠনের আহ্বায়ক নুর উন নবী সাংবাদিকদের জানান, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ৭ দফা দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর।

গ্রাহকদের ৭ দফার মধ্যে রয়েছে–অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ২০১৭ সালে কেড়ে নেওয়া মালিকানা ব্যাংকের প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে দ্রুত ফিরিয়ে দিওয়া, বিদায়ী সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় এস আলমসহ যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে তাদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করণ, ব্যাংকিং খাতে আতঙ্ক দূর করতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার রোধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা ও অর্থঋণ আদালতে বিশেষ সেল গঠন করে লুটেরাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রি করে ব্যাংকের দেনা শোধরে ব্যবস্থা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধন করে চিহ্নিত লুটেরা, তাদের পরিবার ও সুবিধাভোগীদের ব্যাংকিং খাতের পরিচালক পর্ষদে আজীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রদত্ত বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বুধবার ১ হাজার ৪৪২টি এবং মঙ্গলবার ৫৫২টি হিসাব পুনরায় চালু হয়েছে। এসব হিসাবে ইসলামী ব্যাংকে ফেরা টাকার পরিমাণ ১৫০ কোটি ছাড়িয়েছে। একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও ১ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ব্যাংকটির নগদ তারিল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা। গত ১ জুন ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা । সেই হিসাবে ১৭ দিনে কমছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। যদিও গত ১ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা উত্তলন করেন গ্রাহকরা। গত তিনদিনে জমা এবং উত্তলনের হিসাবে সম্প্রতি উত্তোলন ১২ হাজার কোটির সামান্য নিচে নেমেছে। মূলত গ্রাহরে স্বস্তি ও আস্থা বাড়ায় ভাঙ্গা ও স্থানান্তর করা হিসাব পুনরায় চালু করা শুরু হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসাইন সারাবাংলা-‌কে বলেন, ‘গ্রাহক আগের চয়ে আমানত তুলে নেওয়া কমিয়ে‌ছেন। বুধবার একদিনে প্রায় দেড় হাজার গ্রাহক হিসাব ভাঙ্গা বাড়িতে রাখা টাকা ফের ব্যাংকের আগের হিসাবে জমা দিয়েছেন। আগের দি‌নেও কয়েকশ’ গ্রাহক ফিরেছেন। আর যারা টাকা অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন, তাদের অনেকে ইসলামী ব্যাংকে টাকা ফিরে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তবে প্রক্রিয়াগত কারণে তা বিলম্ব হচ্ছে। অস্থিরতায় টাকা তুলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এমন গ্রাহক ফের আগের মত হিসাব চালু রাখতে পারবেন। ক্ষতি বা চার্জ বিবেচনা করা হবে না।’

এদিকে ব্যাংকটির সকল সেবা স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার আরও ১ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। মঙ্গলবার এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৫০০ কোটি, সোমবার ২ হাজার ৫০০ কোটি এবং রোববার ২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। সব মলে দাঁড়াল ৭ হাজার ৬৭০ কোটি টাক। এর আগে বাংলাদেশ ব্যঅংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার নগদ সহায়তা চায় ব্যাংকটি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর