Sunday 21 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যমুনার ভাঙনে সিরাজগঞ্জে তীররক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ জুন ২০২৬ ১৩:৫৫

সিরাজগঞ্জ: যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব বাহুকা এলাকায় নদী তীররক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হঠাৎ করে বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব বাহুকা তীররক্ষা বাঁধের ‘পণ্ডিতের ভিটা’ এলাকায় এ ধসের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভাঙন ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী শাকিল মাহমুদ বলেন, গত কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি ওঠানামা করছে। নদীতে স্রোতের চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাহুকা এলাকায় তীররক্ষা বাঁধের একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং প্রায় ৩০ মিটার এলাকা ধসে গেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রোববার সকাল থেকে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে নদীর পাড়ে চাপ অনুভূত হচ্ছিল। শনিবার বিকেলে হঠাৎ করে বাঁধের অংশ ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সোবাহান বলেন, যমুনা নদীর ভাঙন আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। প্রতিবছর বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এই বাঁধ থাকার কারণে আমরা কিছুটা নিরাপদে ছিলাম। এখন বাঁধের অংশ ভেঙে যাওয়ায় আবার ভয় তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ক্ষতি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীর খুব কাছাকাছি। ভাঙন বাড়লে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দ্রুত বাঁধ মেরামত করে নদীর তাণ্ডব থেকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।

এদিকে স্থানীয় নারী বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, বিকেলে হঠাৎ খবর পাই বাঁধ ভেঙে গেছে। নদীর দিকে তাকিয়ে দেখি বড় অংশ পানিতে চলে গেছে। পরিবার নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। বর্ষার সময় নদী ভাঙনের ভয় সবসময় থাকে। আমরা চাই, দ্রুত কাজ শুরু করে বাঁধটি রক্ষা করা হোক।

তিনি বলেন, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও জমি রক্ষার জন্য এই বাঁধ খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাঁধ নষ্ট হলে শুধু একটি এলাকা নয়, আশপাশের অনেক মানুষ ক্ষতির মুখে পড়বে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নদীর বাঁক পরিবর্তন ও পানির চাপ বেশি থাকা এলাকাগুলোতে ভাঙন বেশি দেখা দেয়।

রতনকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীর সঙ্গে লড়াই করে বসবাস করছেন তারা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটে তাদের। তীররক্ষা বাঁধ থাকায় অনেকটা নিরাপদে ছিলেন। কিন্তু এবার বাঁধে ধস দেখা দেওয়ায় নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকালেই হবে না, ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় আরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

বর্ষার শুরুতেই যমুনার ভাঙনে তীররক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে এখন একটাই দাবি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে বাঁধ রক্ষা করা এবং স্থায়ীভাবে ভাঙন বন্ধ করা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর