Tuesday 23 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভোক্তা ঋণের অর্থ সরাসরি বিক্রেতার হিসাবে পাঠাতে পারবে ব্যাংক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ জুন ২০২৬ ১৮:৪৮

ঢাকা: ভোক্তা ঋণের অর্থ বিতরণে ডিজিটাল পদ্ধতি আরও সম্প্রসারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অটো লোন, গৃহঋণ, ভোক্তা পণ্য ঋণ ও পেশাজীবীদের জন্য দেওয়া ঋণের অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা বা সরবরাহকারীর ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পাঠাতে পারবে ব্যাংকগুলো। এ জন্য আর কেবল পে-অর্ডার বা চেকের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

মঙ্গলবার (২৩ জুন)এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ২০০৪ সালের বিদ্যমান নির্দেশনায় অটো লোন, ভোক্তা টেকসই পণ্য ঋণ এবং
পেশাজীবীদের ঋণের অর্থ যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিক্রেতার অনুকূলে পে-অর্ডার বা চেক ইস্যুর বিধান ছিল। তবে দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থায় দ্রুত ডিজিটালায়নের প্রেক্ষাপটে প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক তহবিল স্থানান্তরের সুযোগ চালু করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণ বিতরণকারী ব্যাংক ও বিক্রেতার হিসাব একই ব্যাংকে থাকলে সরাসরি ওই হিসাবে অর্থ পাঠানো যাবে। আর বিক্রেতার হিসাব অন্য কোনো তফসিলি ব্যাংকে থাকলে রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে।

তবে কোনো অবস্থাতেই এসব ঋণের অর্থ গ্রাহকের ব্যক্তিগত হিসাবে জমা করা যাবে না বা নগদে পরিশোধ করা যাবে না, যদি না বিদ্যমান কোনো আইনি বিধানে বিশেষ অনুমতি থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, ডিজিটাল মাধ্যমে সরাসরি অর্থ স্থানান্তরের ফলে লেনদেন নিষ্পত্তিতে সময় কমবে, কাগজভিত্তিক লেনদেনের ব্যয় হ্রাস পাবে এবং জালিয়াতি বা অনিয়মের ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে গ্রাহক ও ব্যাংক উভয়ের জন্য ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।

সার্কুলারে ব্যাংকগুলোকে ডিজিটাল ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে পরিচালন ঝুঁকি, জালিয়াতি, সাইবার নিরাপত্তা, তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি এবং ভুল বা অননুমোদিত অর্থ স্থানান্তরের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য অভ্যন্তরীণ নীতিমালা, কার্যপ্রণালি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলেছে, সঠিক বিক্রেতার হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের দায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেই বহন করতে হবে। এ বিষয়ে ২০০৪ সালের সার্কুলার ও পরবর্তী নির্দেশনার অন্যান্য বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।