Wednesday 24 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইকরার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল, আদালতে জাহের আলভীর দাবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৪ জুন ২০২৬ ১৯:১৭

– সংগৃহীত ফাইল ছবি

ঢাকা: স্ত্রী আফরা ইভনাত ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রিমান্ড শুনানির সময় আদালতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী। তিনি দাবি করেছেন, ইকরার সঙ্গে তার দাম্পত্য সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে ছড়ানো কিছু তথ্য ও ছবি বিভ্রান্তিকর।

বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানিকালে আলভী বলেন, তিনি বর্তমানে গভীর শোকের মধ্যে রয়েছেন এবং কীভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করবেন, সেটিও বুঝে উঠতে পারছেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ও ইকরা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন এবং সংসারে স্বাভাবিক অভিমান বা মনোমালিন্য থাকলেও তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই চলছিল।

বিজ্ঞাপন

আদালতে তিনি আরও বলেন, ইকরার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছে। অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির হাতে মেহেদিতে ‘আলভী’ লেখা রয়েছে বলে যে ছবি ছড়িয়ে পড়ে, সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, মূল ছবিতে এমন কোনো লেখা ছিল না।

জাহের আলভীর বক্তব্য, মিডিয়ায় কাজ করার কারণে তার যেমন শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে, তেমনি কিছু মানুষ তাকে অপছন্দও করেন। তাদের একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নেপাল সফর নিয়েও আদালতে ব্যাখ্যা দেন আলভী। তিনি জানান, ব্যক্তিগত উদযাপনের জন্য নয়, ছয়টি নাটকের শুটিংয়ের কাজে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং ওই সফরে তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সহকর্মী ছিলেন।

জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আলভী আদালতের কাছে বলেন, তার সন্তান ইতোমধ্যে মাকে হারিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানের পাশে বাবার উপস্থিতি প্রয়োজন বলে তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অন্যদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জাহের আলভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে আফরা ইভনাত ইকরাকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই রাতে ইকরার বাবা কবির হায়াত খান আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।

সারাবাংলা/টিএম/এসআর