ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চেয়েছিলেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার সেই আবেদন গ্রহণ করেন নি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। মামলার অপর আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এদিন মামলার সপ্তম সাক্ষী কবির হোসেন মৃধার জেরা হওয়ার কথা ছিল। শুনানির শুরুতে পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করেন। তিনি জানান, মামলার আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যুর পর নতুন আইনজীবী হিসেবে মুনসুরুল হক চৌধুরী-কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে ট্রাইব্যুনাল সময়ের আবেদন নাকচ করে দেয়।
পরে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জেরা কার্যক্রম শুরু হলে পলককে কাঠগড়ায় তোলা হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেই সাক্ষীকে জেরা করার অনুমতি চান। তার আইনজীবীও জানান, পলক প্রায় ১৫ মিনিট সাক্ষীকে প্রশ্ন করতে চান।
কিন্তু প্রসিকিউশন এ আবেদনের বিরোধিতা করে। প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, প্রচলিত আইনে আসামি নিজে নয়, কেবল তার আইনজীবীই সাক্ষীকে জেরা করতে পারেন। যদিও পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ যুক্তি দেন যে, পলক নিজেও একজন আইনজীবী এবং আইন সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন।
আবেদনটি গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত সাক্ষী কবির হোসেন মৃধাকে জেরা শুরু করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ।
জেরার একপর্যায়ে কবির হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি কোনো বিজয় মিছিলে অংশ নেননি। সেদিন রাতে হাসপাতালে গিয়ে তিনি তার ছেলেসহ আরও আটজনের মরদেহ দেখতে পান।
পরে প্রতিরক্ষা পক্ষের প্রশ্নে সাক্ষী প্রথমে বিভ্রান্তিকরভাবে উত্তর দিলেও পুনরায় ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তার ছেলে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুলিতে আহত হওয়ার পর মারা যান। এরপর জেরা অসমাপ্ত রেখে কার্যক্রম মুলতবি করা হয়।
জেরা শেষে পলক আবারও ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধিত বিধান অনুযায়ী আসামির নিজে মামলা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আদালতের কাছে ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে গোপনীয় যোগাযোগের সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ জানান।
পরে পলকের সঙ্গে হাজতখানায় সাক্ষাৎ করার জন্য তার আইনজীবী মৌখিক আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল আধা ঘণ্টার সময় মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন কবির হোসেন মৃধা। তিনি শহীদ সানজিদ হোসেন মৃধার বাবা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরা বিএনএস এলাকায় বিজয় মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় সানজিদ নিহত হন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মার্জিনা রায়হান, মামুনুর রশিদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।