ঢাকা: জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ দেশের স্বাস্থ্য খাত ও মেগা প্রজেক্টের দুর্নীতির সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, দেশের একটি মানবিক হাসপাতালে ছয়জন শিশু মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিল করা হলেও যখন হামে ৩০০ শিশুর মৃত্যু হলো, তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন পদত্যাগের কথা ভাবলেন না? তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার ফলে হাসপাতালে অধ্যয়নরত ২৪৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থী বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন এবং কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
বাজেট বাস্তবায়নের প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনা শুনলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে বলে মনে হলেও বাজারে গেলে সাধারণ মানুষের কষ্টের ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ আরও বলেন, বাজেটের নীতি নির্ধারণে সাধারণ মানুষ ও সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রাখার সুযোগ খুবই কম। বাজেট উপস্থাপনায় উন্নত বিশ্বের মতো আধুনিক ইনফোগ্রাফিক ও ভিজ্যুয়াল ড্যাশবোর্ড ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
মেগা প্রজেক্টের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মেগা প্রজেক্ট মানেই মেগা দুর্নীতি। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, পদ্মা সেতুর ব্যয় ১৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। দক্ষিণাঞ্চলের রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা পর্যন্ত রাস্তা এখনো অজপাড়াগাঁয়ের মতো পড়ে আছে। মেগা প্রজেক্টের অর্থ তখনই সার্থক হবে যখন তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সবশেষে তিনি সংসদ সদস্যদের কুয়াকাটা ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান।