Saturday 27 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী: অর্থমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৭ জুন ২০২৬ ১৪:০৩

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের কালচারাল বা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের কাজ দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (২৭ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ণ ঐকমত্য পোষণ করে তিনি বিশ্বাস করেন যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং ইতিবাচক মানদণ্ড স্থাপন করেছেন, যা ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

সংসদে অর্থমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যেই দেশবাসীকে দেখিয়েছেন যে বিদেশ সফরে যাওয়ার সময় কিংবা বিদেশ সফর শেষ করে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষের অনাবশ্যক সমাবেশ ও বড় সংবর্ধনা নেওয়ার যে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছিল, তা তিনি নিজে অনুসরণ করেননি। বাংলাদেশের বাস্তব প্রেক্ষাপটে এটিকে একটি অত্যন্ত বড় ধরনের ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের মূল ভিত্তি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক নীতিমালা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময় পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে এবং প্রধানমন্ত্রী তার এই সফল সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ডকে পুনরায় সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ও নিশ্চিত করেছেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এটি বিএনপির রাজনীতির একটি দীর্ঘদিনের ও ধারাবাহিক অবস্থান। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যে শক্ত ভিত্তি স্থাপন করে গিয়েছিলেন, সেটিই ছিল বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলা। বর্তমান সরকার এই মৌলিক নীতিতে কোনো ধরনের আপস করবে না এবং প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক বা অন্যান্য সম্ভাবনা রয়েছে, তা দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানোই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। বিএনপির রাজনীতির শুরু থেকেই বহুপাক্ষিকতাভিত্তিক বা মাল্টিল্যাটারালিজম পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাই বজায় রেখেছেন।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের অত্যন্ত বড় স্বার্থ জড়িত রয়েছে এবং এর পাশাপাশি জ্বালানি খাত, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে। অন্যদিকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। চীন বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, সেটি কীভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমানো যায় এবং চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও এই সফরে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বক্তব্যের শেষাংশে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই ঐতিহাসিক সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী যে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন, তা শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য নয়, বরং সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করেছে।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর