ঢাকা: বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সুরক্ষা, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতর সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ ও পরিবেশ খাতে সরকারের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হয়। গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বর্জ্যকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করে পরিবেশদূষণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ কমবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে।
জ্বালানি খাতেও নেওয়া হয়েছে বড় ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ। ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমমূল্যের একটি অর্থায়ন চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় বর্জ্য ও জলাশয় ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ জাল ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৮৪৭টি অবৈধ বায়না দুয়ারী ও চিংড়ি জাল আটক করা হয়েছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলে ২৫০টি বায়না দুয়ারী ও ২ হাজার ২০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
পানি ও জলবায়ু খাতেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গভীর নলকূপ, গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম, রিংওয়েল ও রেইন ওয়াটার হারভেস্টিংয়ের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে দুর্গম এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের পানির সংকট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, খাল পুনরুদ্ধার ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য খালকে বহুমুখী সামাজিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগও রয়েছে। মডেল খালগুলো সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের সঙ্গে মৎস্যসম্পদ রক্ষায়ও বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি অবৈধ জাল ও নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি পুকুরে কার্পজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও সরকারের নজর রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মোট ১ হাজার ১৭২টি প্রকল্পের বিপরীতে নিজস্ব অর্থায়নসহ ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
সরকারের সাম্প্রতিক এসব উদ্যোগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলাকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।